হাউসে অভিশংসিত হলেন ট্রাম্প, এবার সিনেটে শুরু হবে বিচার

ইতিহাসের তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিশংসিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Image: Reuters)

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে অভিশংসিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইম্পিচমেন্টের পরবর্তী ধাপে প্রক্রিয়াটি এখন চলে যাবে সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে। কয়েক সপ্তাহের শুনানি শেষে সিনেটই সিদ্ধান্ত নেবে অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকতে পারবেন নাকি তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মোট দু’টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয় হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে। একটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরটি সংসদের কাজে বাধা দেওয়ার।

ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউসে ধারণামতই পাশ হয়ে যায় অভিশংসনের দু’টি প্রস্তাবই। হাউসে উপস্থিত ডেমোক্রেট সদস্যদের প্রায় সবাই প্রস্তাব দু’টির পক্ষে এবং রিপাবলিকানদের সবাই বিপক্ষে ভোট দেন।

তবে এই একই সমীকরণে হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে পাশ হওয়া প্রস্তাবগুলো সিনেটে খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। কারণ সেখানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তার ওপর সিনেটে অভিশংসন প্রস্তাব পাশ হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দরকার, যেখানে হাউসে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট।

ফলে হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করতে পারলেও তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হবেনা ডেমোক্রেটিক পার্টির।

সিনেটের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হওয়ায় ডেমোক্রেটরা এখন হাউসে পাশ হওয়া প্রস্তাব দু’টি সিনেটে পাঠাতে বিলম্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প দাবি জানিয়েছেন অবিলম্বে সিনেটে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।

মিশিগানে এক নির্বাচনী র‍্যালিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছিলেন, “আমরা যখন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি… তখন সংসদে থাকা উগ্র বামপন্থীরা দ্বেষ, ঘৃণা আর ক্রোধে নিজেদের শেষ করছে”।

ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্ট নিয়ে বিতর্ক চলছে হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভিসে (Image: Reuters)

হাউসে ভোটের বিস্তারিত

হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে ভোট প্রক্রিয়ার শুরুতেই অভিশংসন প্রস্তাব দু’টির পক্ষে-বিপক্ষে কয়েক মিনিট করে যুক্তি উপস্থাপন করেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের সংসদ সদস্যরা। প্রায় ১০ ঘন্টা ধরে চলে এই প্রক্রিয়া। এরপর স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে আটটায় ভোটাভুটি আরম্ভ হয়।

শুরুতেই ভোট নেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ প্রথম প্রস্তাবটির ওপর। ইউক্রেনে থাকা প্রতিদ্বন্দী জো বাইডেনের ছেলের ব্যবসা নিয়ে তদন্ত চালানোর জন্য দেশটির প্রেসিডেন্টকে চাপ দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, এই অভিযোগটি রয়েছে প্রথম প্রস্তাবটিতে।

রিপাবলিকানদের ১৯৭ ভোটের বিপরীতে ডেমোক্রেটদের ২৩০ ভোট পেয়ে সহজেই প্রস্তাবটি পাশ হয়ে যায়। তবে নিউজার্সি ও মিনেসোটার দু’জন ডেমোক্রেট সাংসদ প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেন।

এরপর ভোট হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার’ দ্বিতীয় প্রস্তাবটির ওপর। প্রথম প্রস্তাবের অভিযোগের ব্যাপারে সংসদে যে তদন্ত হয়েছে, তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে অংশ নেননি, দালিলিক প্রমাণ হস্তান্তর করেননি এবং সহকর্মীদেরও সাক্ষ্য দিতে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ এই দ্বিতীয় প্রস্তাবটিতে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবটি পাশ হয় ২২৯-১৯৮ ভোটে। এই প্রস্তাবে নিউজার্সি ও মিনেসোটার সাথে মেইন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেট সাংসদও নিজ দলের বিপক্ষে গিয়ে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেন।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সব সাংসদই প্রস্তাব দু’টির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে দলটি থেকে বেরিয়ে বর্তমানে স্বতন্ত্র্ হিসেবে থাকা মিশিগানের সাংসদ দু’টি প্রস্তাবেরই পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দু’জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন আর হাওয়াইয়ের ডেমোক্রেট সাংসদ নিরপেক্ষ ভোট দিয়েছেন।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে অভিশংসিত হওয়ার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিণত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাকে সংসদের নিম্নকক্ষ অভিশংসন করেছে। এর আগে অ্যান্ড্রু জনসন (১৮৬৮) ও বিল ক্লিনটনকেও (১৯৯৮) অভিশংসিত করেছিল হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভস। তবে দু’জনেই সিনেটের বিচারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। এছাড়া ১৯৭৪ সালে আরেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনও অভিশংসনের মুখোমুখি হলেও দুই কক্ষেই নিজের পরাজয় নিশ্চিত জেনে উপদেষ্টাদের পরামর্শে আগেভাগেই পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।