আবার স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

আবার স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
(Image : Korean Central News Agency)

স্বল্প পাল্লার দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির ভূখন্ড থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি কয়েক’শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপান সাগরে গিয়ে পড়ে, যেটি পূর্ব সাগর নামেও পরিচিত।

প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৫ টা ৩৪ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার ওনসোন অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়। উৎক্ষেপণের পর প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার (২৬৭ মাইল) পথ অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয় স্বল্প পাল্লার মিসাইল দু’টো।

পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এবছরই মে মাসে উত্তর কোরিয়া যে দু’টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল, বৃহস্পতিবার ছোঁড়া মিসাইল দু’টিও এই গোত্রের বলে মনে হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যার একদিন আগে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন দেশটির পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা করতে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছেন। এরও দু’দিন আগে উত্তর কোরিও নেতা কিম জং উনের একটি নৌঘাঁটিতে সাবমেরিন নির্মাণ পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করে পিয়ংইয়ং। বৃহস্পতিবারের মিসাইল উৎক্ষেপণের সময়ও কিম জং উনের উপস্থিত থাকার ছবি দেখা গেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত আলোকচিত্রে।

একের পর এক এমন সামরিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেদের সমর সক্ষমতার জানান দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যাতে চলমান পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় দরকষাকষিতে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে কিম জং উন প্রশাসন। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিয়েতনামে হওয়া শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে গেলেও গত মাসে দুই কোরিয়ার সীমান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের সাক্ষাৎের পর তা আবার গতি পায়।    

এদিকে গত ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া ঘোষণা দেয় আগামী মাসে এক যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনের। বরাবরের মত এবারও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগের কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে এমন পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে অভিহীত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া যদি যৌথ সামরিক মহড়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তারাও পরমাণু অস্ত্র এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা আবার শুরু করার কথা ভাববে।