আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে জি-৭ এর প্রস্তাব, প্রত্যাখান ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের

আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে জি-৭ এর প্রস্তাব, প্রত্যাখান ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো, প্রত্যাখ্যান করলেন আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে জি-৭ এর দেওয়া সাহায্যের প্রস্তাব (Image: Reuters)

ফ্রান্সে চলতে থাকা জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে জোটের সদস্য দেশগুলো আমাজনে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিককালের ভয়াবহতম দাবানল মোকাবেলায় ব্রাজিলকে আর্থিক এবং অন্যান্য সবরকম সহায়তা দিতে একমত হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটভুক্ত সাতটি দেশ সবমিলিয়ে ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য দেবে দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ব্রাজিলকে।

তবে এই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো। তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বলেছেন, “মি. ম্যাক্রোর ‘জোট’ বেঁধে আমাজনকে ‘রক্ষা’ করার পরিকল্পনায় মনে হয় যেন ব্রাজিল একটি কলোনি কিংবা লো-ম্যানস ল্যান্ড।”

সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের বনাঞ্চলে বিশেষ করে আমাজন এলাকায় রেকর্ড পরিমান অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের বিয়ারিৎজে জড়ো হওয়া জি-৭ ভুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের রাষ্টনেতারা ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জি-৭ গোষ্ঠীর বর্তমান সভাপতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এই সহায়তার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, এই অর্থ ছাড় করা হবে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’, কোন রকম বিলম্ব ছাড়াই এবং প্রাথমিকভাবে তা ব্যয় করা হবে ব্রাজিলের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নি-নির্বাপক বিশেষ বিমান কেনার কাজে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আলাদা করে প্রস্তাব দেন, ব্রাজিল চাইলে ফরাসি সামরিক বাহিনী কয়েক ঘন্টার মধ্যে উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছে প্রয়োজনীয় যেকোন সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

তবে ব্রাজিলের কট্টর জাতীয়তাপন্থী প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো একেবারেই ভাল চোখে দেখেননি ম্যাক্রো ও জি-৭ এর এই প্রস্তাবগুলো। তিনি আমাজনকে ‘রক্ষা’ করার জন্য জি-৭ জোটের এই তৎপরতার পেছনে গোপন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো এক টুইট বার্তায় লেখেন, ব্রাজিলের স্বার্বভৌমত্বের প্রতি সকলের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিৎ। তিনি জানান, আমাজন যেসব দেশের অংশ, এটি রক্ষায় তাদেরকে নিয়ে কোন ‘যৌথ পরিকল্পনা’ করা যায় কিনা সেব্যাপারে তিনি কলম্বিয়ার প্রসিডেন্টের সাথে আলোচনা করেছেন।

অবশ্য প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, আমাজনকে রক্ষায় যেকোনো তহবিল গঠনকে তারা স্বাগত জানায়।

আমাজনে ভয়াবহ এই দাবানল শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন ব্রাজিলের কট্টর জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো। ‘পরিবেশের ক্ষতি করে হলেও শিল্পায়ন করা প্রয়োজন’ – তার এমন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য শুরু থেকেই ব্রাজিলের পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের চোখে খলনায়ক ছিলেন তিনি। তার ওপর আমাজনে আগুন লাগার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন পদে পদে সমালোচিত হচ্ছে তার সরকার।

দেশি-বিদেশি প্রবল চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো আমাজনের দাবানল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেশটির সেনাবাহিনীকে দিয়েছেন। ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ৪৪,০০০ সেনা সদস্যকে অগ্নিকান্ড উপদ্রূত সাতটি প্রদেশে পাঠানো হয়েছে। জলবাহী বিশেষ বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে আগুন নেভানোর জন্য।