ইরাকের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালালো ইরান

File photo (Image: Reuters)

মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধে ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বিমান ঘাঁটিতে আকস্মিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরাকের ইরবিল ও আল-আসাদের মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে স্থানীয় সময় বুধবার রাত দু’টোয় ডজনেরও অধিক ব্যালাস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে ইরান। মিসাইলগুলো লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভূলভাবে আঘাত হানলেও তাতে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই অপ্রত্যাশিত মিসাইল হামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু এক টুইট বার্তায় ‘সব ঠিক আছে’ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয়ের কাজ চলছে।

বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাশের সোলাইমানির মৃত্যুর পর ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা এসেছিল। তেহরানে কয়েক লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পাদনের পর মঙ্গলবার সোলাইমানিকে সমাহিত করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ইরাকের ইরবিল ও আল-আসাদের মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল আক্রমণ চালাল ইরান।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি তাদের এই আক্রমণকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের মুখে চড় কষানো’ হিসেবে অভিহীত করে অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বুধবারের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার ‘চূড়ান্ত জবাব’ হবে এই অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে তাড়ানো।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহাদি জানিয়েছেন, ইরান তাদেরকে হামলার ব্যাপারে অগ্রিম জানিয়েছিল। ইরান তাদেরকে এটাও আশ্বস্ত করেছিল যে শুধুমাত্র মার্কিন উপস্থিতি রয়েছে, ইরাকের এমন জায়গাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, মিসাইল হামলার কোন ইরাকি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্থ হননি।

এদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা চলাকালীনই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী একটি বিমান ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত হয়েছে। মিসাইল হামলার সাথে এই ঘটনার কোন সম্পর্ক আছে কিনা সেই ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার জেরে সম্প্রতি বিশ্বের বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের বিমানগুলোর জন্য ইরাক ও ইরানের আকাশসীমা পরিহারের ঘোষণা দিয়েছিল।

ইরাকে এই মূহুর্তে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে?

সাদ্দাম হোসেনের পতনের কয়েক বছর পর ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যকে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটিতে ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস) এর উত্থান ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি আবার বৃদ্ধি করে।

এই মূহুর্তে ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫,০০০ সদস্য অবস্থান করছে।

ইরানের মিসাইল হামলায় অন্যদের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ইরান যদি তার দেশে একই রকম কোন হামলা চালায় তাহলে ইসরায়েল কঠোরভাবে পাল্টা আঘাত করবে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহাদি সব পক্ষকে সংযত থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় ইরাকসহ পুরো অঞ্চলে এবং পুরো পৃথিবীতেই সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইরানের উদ্দেশ্যে আর কোন ‘বেপরোয়া ও বিপদজনক’ হামলা না চালানোর আহবান জানিয়েছেন।

ফ্রান্স, আরব আমিরাত ও ন্যাটো তাদের প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিয়েছে।