ইরানের মিসাইল হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সংযত প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Image: Reuters)

ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “হামলার পর ইরানকে দেখে মনে হচ্ছে তারা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে গেছে”।

ইরাকের স্থানীয় সময় বুধবার গভীর রাতে ইরাকের ইরবিল ও আল-আসাদে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ডজনেরও অধিক মিসাইল নিক্ষেপ করে ইরান। দেশটি পরে দাবি করে, এই হামলায় ৮০ জন ‘মার্কিন সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কয়েক ঘন্টা সময় নেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট টাম্প শুধু ‘সব ঠিক আছে’ মন্তব্য করে ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ের কাজ চলছে বলে জানান টুইটারে।

বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, আগের রাতে ইরানের চালানো মিসাইল হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন সেনা নিহত হননি। ঘাঁটি দু’টি সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মাত্র।

ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধে ইরান যদি তাদের ঘাঁটিতে বা মার্কিন কোন নাগরিকের ওপর হামলা চালায় তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইরাকের দু’টি ঘাঁটিতে একযোগে মিসাইল হামলার পরও দেশটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সংবাদ সম্মেলনে জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি মন্তব্য করেন, “আমেরিকা সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে সেরা। তবে আমাদের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম রয়েছে, তার মানে এই নয় যে সেগুলো ব্যবহার করতেই হবে”।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “ইরান যতদিন তাদের পরমাণু অস্ত্রের আশা ত্যাগ না করবে এবং সন্ত্রাসীদের সমর্থন করা না থামাবে, ততদিন এমন নিষেধাজ্ঞা চলতেই থাকবে”।

তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর প্রতি ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনার আহবান জানিয়ে বলেন, “বিশ্বকে সমন্বিত ও স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে হবে ইরানের শাসক গোষ্ঠীর কাছে”।

গত সপ্তাহে বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সোলাইমানি। চৌকষ এই সমরবিদের কারণেই গত দু’দশকে সৌদি আরবের একক কর্তৃত্ব খর্ব করে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বলয় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।

ইরান কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বুধবার সোলাইমানিকে সমাহিত করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রতিবেশী ইরাকে অবস্থিত দু’টি মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালায় ইরান। এর জবাব যুক্তরাষ্ট্র কতটা তীব্রভাবে দেবে তা নিয়ে গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংযত প্রতিক্রিয়ায় আপাতত স্বস্তি আন্তর্জাতিক মহলে।