ইরানের আকাশে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহী নিহত

ইউক্রেনের বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংশাবশেষ (Image: Nazanin Tabatabaee, WANA (West Asia News Agency) via Reuters)

১৭৬ জন আরোহী নিয়ে ইউক্রেনের একটি বোয়িং বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানের আকাশে। বিমানটিতে থাকা আরোহীদের কেউই আর বেঁচে নেই।

তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল স্থানীয় সময় ভোরে কিয়েভের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ইউক্রেনের জাতীয় বিমান সংস্থার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটি। উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন ইরান ও কানাডার নাগরিক।

বিমানটি কিভাবে বিধ্বস্ত হল তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, উড্ডয়নের সময় তেহরানের আকাশে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক ছিল, বিমানের পাইলট ও ক্রুরা ছিলেন অভিজ্ঞ আর বিমানটির পূর্বনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণও গত সোমবারই করা হয়েছে। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়ার বৈরিতা বা চালকের অদক্ষতায় এটির বিধ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে দূর্ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে ইরাকের দু’টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালায় ইরান। সেখান থেকেই কোন মিসাইল ভূল করে ইউক্রেনের বিমানটিকে আঘাত করে থাকতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

ইরানের অধিকাংশ গণমাধ্যম অবশ্য দূর্ঘটনাটির জন্য যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করে খবর প্রকাশ করছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একজন উর্ধ্বতন কর্তা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাকবক্স (যাতে ককপিটে পাইলটদের কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড ও বিমানটির কারিগরি অবস্থার সব মূহুর্তের রেকর্ড থাকে) উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু তা বিমানটির নির্মাতা সংস্থা বোয়িং বা আমেরিকার কারো হাতে তুলে দেওয়া হবেনা।

উল্লেখ্য, বোয়িং হল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান নির্মাণ সংস্থা। বিশ্বের কোথাও বোয়িংয়ের কোন বিমান দূর্ঘটনার শিকার হলে, তার আন্তর্জাতিক তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ডও অংশ নেয়। অবশ্য সেক্ষেত্রে দূর্ঘটনা যে দেশে ঘটেছে, সেখানকার সরকারের অনুমতিরও প্রয়োজন হয়।

দুর্ঘটনার পর বিমানটির ধ্বংসাবশেষ তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরের ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা সকাল থেকে নিহতদের দেহ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করছে। এলাকাজুড়ে যাত্রীদের জুতো, কাপড়, বাচ্চাদের বই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

ইরানের আকাশে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশ দু’টির মধ্যকার সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্রান্স, জাপান, মালেয়শিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি দেশও নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের সাথে তাদের সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

কয়েকটি এয়ারলাইন্স অবশ্য আগেই তাদের বিমানের জন্য ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা পরিহারের ঘোষণা দিয়েছিল।

কারা ছিলেন বিমানটিতে?

বিধ্বস্ত বিমানটির ১৭৬ জন আরোহীর মধ্যে ছিলেন ইরানের ৮২, কানাডার ৬৩, ইউক্রেনের ১১, সুইডেনের ১০, আফগানিস্তানের ৪, ব্রিটেনের ৩ ও জার্মানির ৩ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন ছিল শিশু। ইউক্রেনের ১১ জন নিহতের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন বিমানটির ক্রু।

ইউক্রেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মোট ১৬৯ জন যাত্রী বিমানটির টিকিট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দু’জন টিকিট বাতিল করায় ১৬৭ জন যাত্রী ও ৯ জন ক্রু নিয়ে যাত্রা করে বিমানটি।