তেহরানে কাশেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে শোকার্ত মানুষের ঢল

কাশেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিসহ সামরিক, বেসামরিক কর্তারা (Image: Official website, Ayatollah Khamenei)

মার্কিন হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ জেনারেল ও কুদস ফোর্সের প্রধান কাশেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে তেহরানের রাজপথে সমবেত হয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ। শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন ড্রোন হামলায় মারা যান সোলাইমানিসহ বেশ কয়েকজন।

কাশেম সোলাইমানির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর প্রতিশোধের’ হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটি ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।

৬২ বছর বয়সী সোলাইমানি ইরানি সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক শাখা কুদস ফোর্সের দায়িত্ব পান ১৯৯৮ সালে। এই শাখার দায়িত্ব ছিল মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার।

কাশেম সোলাইমানির দু’দশকের নেতৃত্বে কুদস ফোর্স কার্যতই সৌদি আরবের একক প্রভাব খর্ব করে ইরাক থেকে সিরিয়া, লেবানন থেকে ফিলিস্তিন, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যকর প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

ইরানে জাতীয় বীরের মর্যাদা পাওয়া কাশেম সোলাইমানিকে দেশটির শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হত।

সোলাইমানির শেষকৃত্য

শুক্রবারের হামলায় নিহত কাশেম সোলাইমানিসহ অন্যান্যদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয় ইরানের রাজধানী তেহরানে। কালো কাপড় পড়ে কয়েক লক্ষ লোক এতে যোগ দেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ সকাল থেকেই তেহরানের কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন সড়কে জড়ো হতে থাকেন।

এদের অনেককেই নিহত জেনারেলের স্মরণে কাঁদতে দেখা যায়। অনেকে কাশেম সোলাইমানির ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছিলেন। সোলাইমানিসহ অন্যদের বহন করা কফিন সেখানে এসে পৌঁছলে মার্কিনবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

শেষকৃত্যের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিসহ দেশটির সামরিক, বেসামরিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সকল অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। ইরানে কারো শেষকৃত্যে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এমন অংশগ্রহণের চিত্র সাম্প্রতিক অতীতে আর দেখা যায়নি।

কাশেম সোলাইমানিসহ নিহতদের জানাজা পরিচালনা করেন স্বয়ং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। জানাজা পরিচালনার একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন আবেগাপ্লুত খামেনি, কঠোর শাসক হিসেবেই যিনি দেশে-বিদেশে পরিচিত।

শেষকৃত্যে সবকিছু ছাপিয়ে সকলের নজর কাড়ে জেনারেল কাশেম সোলাইমানির মেয়ে জেইনব সোলাইমানির বক্তব্য। বাবাকে স্মরণ করে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি ভাববেননা আমার বাবার শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে”।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মার্কিন সেনাদের পরিবারেরা এখন থেকে তাদের স্বজনদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে”। জেইনবের এমন কঠোর ভাষার বক্তৃতার সময় উপস্থিত জনতা হর্ষধ্বনি করে তাকে সমর্থন জানাচ্ছিল।

তেহরানে শেষকৃত্যের পর কাশেম সোলাইমানির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শিয়াদের পবিত্র শহর কওমে। সেখানেও বিপুল সংখ্যক মানুষ সোলাইমানির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। মঙ্গলবার নিজ জন্মস্থান কেরমেনে সমাহিত করা হবে জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে।

কাশেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে তেহরানের রাজপথে শোকার্ত মানুষের ঢল (Image: Official website, Ayatollah Khamenei)
কাশেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে তেহরানের রাজপথে শোকার্ত মানুষের ঢল (Image: Official website, Ayatollah Khamenei)
কাশেম সোলাইমানির শেষকৃত্যে তেহরানের রাজপথে শোকার্ত মানুষের ঢল (Image: Official website, Ayatollah Khamenei)