ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টে সম্মতি দিল বিচার বিভাগীয় কমিটিও

(Image: Reuters)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা দু’টি অভিশংসন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের বিচার বিভাগীয় কমিটি। ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠ এই কমিটিতে প্রস্তাবগুলো অনায়াসেই পাশ হয়ে যাবে বলে আগেই ধারণা করা হয়েছিল।

এই অনুমোদনের ফলে এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসনের ব্যাপারে ভোটাভুটি হবে মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে’। সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ হলে প্রস্তাব দু’টি চলে যাবে সংসদের উচ্চকক্ষ ‘সিনেটে’।

সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিশংসনের দু’টি প্রস্তাবের যেকোন একটিও পাশ হয়ে গেলেই ক্ষমতাচ্যুত হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে ডেমোক্রেটদের কাঙ্খিত সেই প্রত্যাশা আদৌ পূরণ হবে কিনা সেব্যাপারে নিশ্চিত নয় তারা নিজেরাও।কারণ হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সিনেটে ডেমোক্রেটরা সংখ্যালঘু। আর রিপাবলিকান সিনেটরদের কেউ পক্ষত্যাগ করে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, এমন ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তবে চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক, বিচার বিভাগীয় কমিটির আজকের সিদ্ধান্তের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট যার ইম্পিচমেন্টের ব্যাপারে ভোটে যাচ্ছে মার্কিন সংসদ।এর আগে কেবল প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসন(১৮৬৭-৬৮) ও প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের (১৯৯৮-৯৯) ইম্পিচমেন্ট নিয়ে ভোট হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের (১৯৭৩-৭৪) বিরুদ্ধেও ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হলেও সংসদে ভোটের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।

বিচার বিভাগীয় কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইম্পিচমেন্টের পুরো প্রক্রিয়াকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ভাওতা’ হিসেবে অভিহীত করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের যে দু’টি প্রস্তাব আনা হয়েছে তার একটি হল ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ আর অন্যটি ‘কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়া’। কয়েক দিনের বিতর্ক শেষে শুক্রবার বিচার বিভাগীয় কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব দু’টি ২৩-১৭ ভোটে পাশ হয়।

অভিশংসনের প্রথম প্রস্তাবটিতে অভিযোগ আনা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দী জো বাইডেনের ছেলের ইউক্রেনে থাকা ব্যবসা নিয়ে তদন্ত করার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভোলদেমায়ার জেলেনস্কিকে টেলিফোনে চাপ দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে নিজের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের’ জন্য ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট পদ ব্যবহার করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে দাবি ডেমোক্রেটদের।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রথম অভিযোগের ব্যাপারে মার্কিন সংসদে হওয়া তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে অসহযোগিতা করেছেন এবং হোয়াইট হাউসে কর্মকর্তাদেরও তাতে সাক্ষ্য দিতে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

বিচার বিভাগীয় কমিটির ভোটাভুটিতে ডেমোক্রেট সদস্যদের সবাই প্রস্তাব দু’টির পক্ষে এবং রিপাবলিকানদের সবাই বিপক্ষে ভোট দেন।

এরপর কি হবে?

আগামী সপ্তাহে, সম্ভবত বৃহস্পতিবার, মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে অভিশংসনের প্রস্তাব দু’টি ভোটাভুটির জন্য উত্থাপিত হবে। ভোটের আগে উভয় পক্ষের সাংসদরা প্রস্তাবগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে কয়েক মিনিট করে বক্তব্য রাখবেন।

ডেমোক্রেটদের নেতা ও হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার জন্য নিজ দলের সাংসদদের প্রতি কোন হুইপ জারি করবেননা। অর্থাৎ ডেমোক্রেট সাংসদরা স্বাধীনভাবেই ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাবের ব্যাপারে ভোট দিতে পারবেন।

তবে তাতে দু’এক জন ডেমোক্রেট সাংসদ বিপক্ষে ভোট দিলেও প্রস্তাবগুলো হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে পাশ হতে সমস্যা হবেনা। কারণ সেখানে রিপাবলিকানদের চেয়ে ৩৬ জন সাংসদ বেশি রয়েছে ডেমোক্রেটদের।

সিনেটে কি হবে?

হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে অভিশংসনের প্রস্তাব দু’টি বা যেকোন একটিও পাশ হলে তা চলে যাবে সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে অভিশংসন প্রস্তাবের ব্যাপারে শুনানি শুরু হবে। শুনানি চলাকালীন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়াও সদস্যরা নিজেদের মতামতও জানাবেন।

সিনেটে কতদিন ধরে এই শুনানি চলবে তার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বিল ক্লিনটনের বেলায় এটি চলেছিল পাঁচ সপ্তাহ ধরে।

শুনানি শেষে ভোটের জন্য সিনেটে উঠবে অভিশংসন প্রস্তাব। তবে সেখানে ভোটাভুটিতে প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। কারণ সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল বলছিলেন, সিনেটররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন, এমন সম্ভাবনা ‘শুন্য’। তিনি জানান, তারা হোয়াইট হাউসের কৌঁসুলিদের সাথে সমন্বয় করেই পুরো প্রক্রিয়ায় এগোবেন, যাতে করে ইম্পিচমেন্ট নিয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান ও রিপাবলিকান সিনেটরদের অবস্থানে কোন পার্থক্য না থাকে।