ড্রোন নামানোর প্রতিশোধে ইরানে সাইবার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

(image: Shutterstock / CNNmoney)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার ইরানের অস্ত্র ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে ইরানের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রকেট ও মিসাইল নিক্ষেপণ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে।

ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই আক্রমণটি চালানো হয়। গুলি করে নামানো ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল বলে তেহরান দাবি করলেও, ওয়াশিংটনের ভাষ্যমতে সেটি আন্তর্জাতিক সীমানা একেবারেই অতিক্রম করেনি।

সেই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে পাল্টা সামরিক আক্রমণের আশংকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি। এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ড্রোন ভূপাতিত করার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের তিনটি স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তাতে ১৫০ জনের মত মানুষ মারা যেতে পারে শুনে হামলা করা থেকে বিরত থাকেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বিমান হামলার নির্ধারিত সময়ের ঠিক ১০ মিনিট আগে হামলা বাতিল করার নির্দেশ দেন তিনি।

তবে দেড়শ মানুষের মৃত্যু এড়াতে বিমান হামলা থেকে পিছয়ে এলেও নিজেদের ড্রোন ধ্বংসের প্রতিশোধ নিতে তার পরিবর্তে সাইবার হামলার পথ বেছে নিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে জানমালের কোন ক্ষতির যেমন সুযোগ নেই, আবার এর প্রভাবে রকেট ও মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার একাংশ বিকল হয়ে পড়াটা প্রতিপক্ষ দেশের সামরিক শক্তির জন্য বড়সড় এক ধাক্কা।

অবশ্য সাইবার হামলায় ইরানের ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমান এখনও জানা যায়নি।

এদিকে শুধু সাইবার হামলাই নয়, ইরানের ওপর আরও একদফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে ইরানকে বিরত রাখার জন্য বড় আকারের এমন আর্থিক অবরোধের প্রয়োজন আছে এবং যতদিন তেহরান পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী থেকে পুরোপুরি সরে না আসবে ততদিন আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে থাকবে।

২০১৫ সালে পরমাণু কর্মসূচী ইস্যুতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর একটি চুক্তি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের গদিতে তখন বারাক ওবামা। এই চক্তির ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে নিয়ে চলা উত্তেজনা প্রশমিত হতে শুরু করে। কিন্তু ২০১৬ সালে্র মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই টানাপোড়েন শুরু হয় চুক্তিটি ঘিরে। শুরু থেকেই এটিকে একটি ‘অসম চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে আসা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশেষে গত বছর চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন।

আর তখন থেকেই দেশ দু’টির মধ্যে উত্তেজনার পারদ নতুন করে চড়তে আরম্ভ করে। ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের সাথে তেল আমদানিসহ কোন প্রকার বাণিজ্য না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় একের পর এক দেশকে।

এমন প্রেক্ষাপটে গত এক মাসে দু’দফায় চোরাগোপ্তা হামলার শিকার হয় ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দী সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশের কয়েকটি তেলের ট্যাঙ্কার। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র, যা অস্বীকার করে তেহরান। সে সংকটের মীমাংসা হওয়ার আগেই মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামাল ইরান, সাইবার হামলায় পাল্টা জবাব দিল যুক্তরাষ্ট্রও।