তাইওয়ানের নির্বাচনে আবারও জিতলেন চীনবিরোধী সাই ইং-ওয়েন

সাই ইং-ওয়েন, দ্বিতীয়বারের মত জিতলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট পদে (Image: Reuters)

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মত জয়লাভ করেছেন চীনবিরোধী নেত্রী সাই ইং-ওয়েন।

শনিবার অনুষ্ঠিত দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রেকর্ড ৮২ লক্ষ নাগরিক ভোট দেন। ফল গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে সহজেই নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সাই।

সাই ইং-ওয়েন চীনের সাথে দূরত্ব বজায় রাখার নীতির বিপরীতে নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দী হান কিউ-ইউ তাইওয়ানের অর্থনীতির স্বার্থে চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের নীতিতে বিশ্বাসী।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট সাই বলেন, চীনের উচিৎ হবে বল প্রয়োগ করে তাইওয়ানকে জোর করে চীনের অংশ বানানোর হুমকি দেওয়া বন্ধ করা।

এক সংবাদ সম্মেলনে সাই বলেন, “তাইওয়ান পৃথিবীকে দেখিয়ে দিল যে আমরা আমাদের মুক্ত গণতান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থা কতখানি ধারণ করি”।

১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তাইওয়ান। শুরু থেকেই তাদের স্বার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে আসছে চীন। দেশটি ক্রমাগত হুমকি দিয়ে এসেছে, তাইওয়ানকে অবশ্যই চীনের সাথে একীভূত হতে হবে, প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগ করে তা করা হবে।

সেদিকে ইঙ্গিত করেই তাইওয়ানের পুনঃনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাই বলেন, “শান্তির অর্থ হল তাইওয়ানের ওপর চীনের বলপ্রয়োগের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আমি আশা করি বেইজিংয়ের শাসকরা এটা বুঝতে পারছেন যে গণতান্ত্রিক তাইওয়ান এবং এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার এসব হুমকি ও ধমকের কাছে নতিস্বীকার করবেনা”।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট পদে সাই ইং-ওয়েনের বিজয়ী হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এই বিজয়কে তাইওয়ানের ‘বলিষ্ঠ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার’ নিদর্শন হিসেবে অভিহীত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আশা করি প্রেসিডেন্ট সাইয়ের নেতৃত্বে তাইওয়ান সেইসব দেশের জন্য উদাহরণ হতে থাকবে যারা গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি ও জনগণের উন্নতির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে”।

এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাই ইং-ওয়েনের প্রধান প্রতিদ্বন্দী হান কিউ-ইউ পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই পরাজয় মেনে নেন। এক সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট সাইকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আরও চার বছর দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট পেয়েছেন তিনি”।

ধারণা করা হচ্ছে, তাইওয়ানের এবারের নির্বাচনে হংকংয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ যথেষ্ঠ প্রভাব ফেলেছে। গত বছর সেখানকার গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলন ও সেটির ওপর চীনপন্থী সরকারের দমনপীড়ন তাইওয়ানের ভোটারদের একটি অংশ বিশেষ করে তরুণদের ক্ষুব্ধ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন শুধু যে বড় ব্যবধানে জিতেছেন তাই নয়, ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি যত ভোট পেয়ে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, এবার তার চেয়েও ১৩ লক্ষ ভোট বেশি পেয়ে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাথে সাথে দেশটির সংসদ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। সেটিরও সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ১১৩ আসনের সংসদে প্রেসিডেন্ট সাইয়ের ‘ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি’ জিতেছে ৬১ আসন আর প্রতিদ্বন্দী হান কিউ-ইউয়ের ‘কুয়োমিনতাং’ (চীনা ন্যাশনালিস্ট পার্টি) পেয়েছে মাত্র ৩৮ আসন।

বহিঃর্বিশ্বে তাইওয়ানের কূটনৈতিক অবস্থানটি কেমন

চীনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাইওয়ান স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। এর নিজস্ব সংসদ, সরকার, সংবিধান ও সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে।

চীন তাইওয়ানের স্বার্বভৌমত্ব স্বীকার তো করেইনা, উপরন্তু যেসব দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেবে তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার নীতি অনুসরণ করে। একারণেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশ পৃথিবীর সিংহভাগ দেশই তাইওয়ানকে স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ তাইওয়ানকে শুধু স্বীকৃতিই দেয়না, দেশটিকে নিয়মিত অস্ত্র সহায়তাও করে আসছে। চীনের যেকোন সামরিক আগ্রাসন থেকে দেশটিকে রক্ষা করা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমাগত চীনা প্রভাব বিস্তারের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশগুলো তাইওয়ানকে বড় আকারে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে।