নিউজিল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

অগ্ন্যুৎপাতের পর সাদা ছাইয়ে ঢাকা পুরো হোয়াইট আইল্যান্ড (Image: Auckland Rescue And Helicopter Trust, via Reuters)

নিউজিল্যান্ডের হোয়াইট আইল্যান্ডের আগ্নেয়গিরিতে আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার হাসপাতালে সর্বশেষ আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারের পর অস্ট্রেলিয় এই নাগরিককে নিজে দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এই নিয়ে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬ জনে।

দ্বীপটিতে এখনও দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে রবিবার সেখানে আবার বিশেষ দল পাঠায় কর্তৃপক্ষ। তবে নিঁখোজ দুজনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলছিলেন, পুলিশের অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিভাগে আটজনের একটি দল নিখোঁজদের অন্তত একজনের দেহ থাকতে পারে এমন একটি এলাকায় ৭৫ মিনিট ধরে তল্লাশি চালায়। কিন্তু সেখানে শেষ পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঐ দুজনের দেহ উদ্ধারে তারা বদ্ধপরিকর। তার জন্য হোয়াইট আইল্যান্ডের চারপাশের জলাশয়ে নেমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ডুবুরিরা তল্লাশি চালাতে পারে। আগের দিন শনিবার ভেসে থাকা একটি দেহ দেখা গেলেও অগ্ন্যুৎপাতের ছাই-মাটি মেশা দূষিত জল ও ধোঁয়াশার কারণে সেখানে যাওয়া যায়নি। নিখোঁজ অন্য দেহটিও আশেপাশেই পাওয়া যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।

সোমবার হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্নেয়গিরিটিতে আর কোন উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা দেখা যায়নি। তবে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার বিশেষজ্ঞরা।

নিহতদের পরিচয়

দ্বীপটি থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহগুলো অকল্যান্ডে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে দেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। প্যাথলজিস্ট, ফরেনসিক ডেনটিস্ট ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞসহ কয়েকজনের একটি দল একাজে নিয়োজিত আছেন।

পুলিশ সম্ভাব্য ভূক্তভোগীদের চেহারার বর্ণনা, জামা, ছবি, আঙুলের ছাপ, মেডিকেল রেকর্ড, ডিএনএ নমুনা প্রভৃতি তাদের স্বজন ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য-উপাত্ত মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সাথে মিলিয়ে পরিচয় সনাক্তের কাজ করা হবে।

এখন পর্যন্ত যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা হলেন ১৫ বছরের জো এলা হসকিং, ৫৩ বছরের গ্যাভিন ব্রায়ান ড্যালো, ৫১ বছরের অ্যান্টনি জেমস ল্যাংফোর্ড, ২৪ বছরের টিপেনে জেমস টে-রাণগি ও ২১ বছরের ক্রিস্টাল ইভ ব্রোওইট।

অগ্ন্যুৎপাতের সময় হোয়াইট আইল্যান্ড দ্বীপটিতে যে ৪৭ জন অবস্থান করছিলেন তাদের মধ্যে ২৪ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, ৯ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৫ জন নিউজিল্যান্ডের, ৪ জন জার্মানির, ২ জন চী্নের, ২ জন বৃটেনের ও ১ জন মালয়শিয়ার নাগরিক।