পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে
১০ ডাউনিং স্ট্রীটে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে (image: Reuters)

ব্রেক্সিট ইস্যুতে প্রবল চাপের মুখে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে অবশেষে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন।

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রীটে দেয়া এক আবেগময় ভাষণে থেরেসা বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকরে জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারপরও সফল হতে না পারা তার জন্য ‘গভীর দুঃখের’ বিষয়।

এরপরই তিনি ঘোষণা করেন আগামী ৭ জুন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ তথা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন থেরেসা।

কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুনের শুরুতে আরম্ভ হবে এবং সম্পন্ন হবে জুলাইয়ে শেষ নাগাদ।

এর অর্থ জুনের প্রথমদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ব্রিটেন সফরের সময় ডাউনিং স্ট্রীটে তাকে স্বাগত জানাবেন থেরেসা মে’ই।

থেরেসা মে’র পদত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “থেরেসা মে’র জন্য আমার খারাপ লাগছে। আমি তাকে খুব পছন্দ করতাম। তিনি একজন ভাল মহিলা। কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং খুব দৃঢ় একজন মানুষ।’’

এদিকে থেরেসা মে’র পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগীতায় শামিল হতে শুরু করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির একাধিক নেতা। দেশটির আলোচিত রাজনীতিবিদ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন ইস্থার ম্যাকভে, ররি স্টুয়ার্ট থেকে শুরু করে সর্বশেষ জেরেমি হান্ট, যিনি দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পদত্যাগের বিবৃতি পড়ার সময় থেরেসা মে বলেন, “ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সাথে তার যে সমঝোতা হয়, তাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সমর্থন পাওয়ার জন্য তার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল তিনি করেছেন। এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’’

তিনি বলেন, “এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য নতুন প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্টে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করাতে হবে। আর সেটা করা তখনই সম্ভব হবে যখন সংসদের সব পক্ষই ছাড় দিতে সম্মত হবে।’’

কয়েক লাইনের বিবৃতির শেষটুকু পড়ার সময় আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন থেরেসা মে। অশ্রুরূদ্ধ কন্ঠে বলেন, “আমি আর কিছু সময়ের মধ্যেই সেই পদটি ছেড়ে দিতে যাচ্ছি যেখানে দায়িত্ব পালন করাটা আমার জীবনের সেরা সন্মান হয়ে থাকবে। আমি কৃতজ্ঞ ও ধন্য সেই দেশের সেবা করতে পেরে, যে দেশকে আমি ভালবাসি।’’

প্রতিক্রিয়া

থেরেসা মে’র পদত্যাগের ঘোষণায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বরিস জনসন বলেন, “নতুন নেতার সামনে সুযোগ তৈরি হবে ব্রেক্সিটের পুরো প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে চেষ্টা করার। আমরা পূর্বঘোষিত ৩১ অক্টোবরই ইইউ ছেড়ে যাব, চুক্তি হোক আর না হোক।’’

বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি বেশ কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, “পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে থেরেসা মে ঠিক কাজই করেছেন। তিনি স্বীকার করে নিলেন যে দেশ শাসন করার জন্য তিনি অযোগ্য এবং তার দ্বিধাবিভক্ত দলটিও তাই। এরপর যিনিই ওই দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হোন, তার উচিৎ হবে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া।’’

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট তার প্রতিক্রিয়ায় থেরেসা মে’কে একজন ‘প্রকৃত জনসেবক’ হিসেবে মন্তব্য করেন।

থেরেসা মে’র পূর্বসূরী ডেভিড ক্যামেরন থেরেসা মে’কে ধন্যবাদ জানান ব্রেক্সিট কার্যকরে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য। বেক্সিট গণভোটের সময় ইইউ’তে ব্রিটেনের থেকে যাওয়ার পক্ষের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ক্যামেরন। কিন্তু গণভোটে ব্রিটেনবাসী ইইউ ত্যাগের পক্ষে রায় দিলে পরাজয়ের দায়ভার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ডেভিড ক্যামেরন।

শুধুমাত্র ব্রেক্সিটের জন্য গঠিত ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজে তার প্রতিক্রিয়ায় থেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন উভয়েরই সমালোচনা করে বলেন, “ইইউ-পন্থী ব্যক্তিরা বিদায় নিয়েছে। এখন হয় তাদের দল শিক্ষা নেবে, নাহয় শেষ হয়ে যাবে।’’