প্রথম নারী প্রধান পেতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

উরসুলা ভন ডের লেয়েন (image: Reuters)

বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট হিসেবে পরিচিত ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ এর প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মত সুযোগ পেতে যাচ্ছেন একজন নারী। এই পদে বাকি প্রার্থীদের সম্ভাবনা একে একে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আলোচনায় উঠে আসে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ভন ডের লেয়েনের নাম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাহী পরিষদ ‘ইউরোপীয়ান কমিশন’-র প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন জিন-ক্লড জাংকার। এবছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার জায়গায় এখন নতুন ইউরোপ নেতার খোঁজ শুরু করেছে ইইউ-র সদস্য দেশগুলো।

এদিকে শুধু ইউরোপীয় কমিশনের প্রধানই নয়, মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে জোটের অন্যান্য শীর্ষ পদগুলোতেও।

‘ইউরোপীয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক’-র প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল’ (আইএমএফ) এর বর্তমান প্রধান ক্রিসটিন ল্যাগার্ডকে। ‘ইউরোপীয়ান কাউন্সিল’-র প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিচেল। জোটের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান পদে বসবেন স্পেনের জোসেফ বোরেল। বাকি একটি দায়িত্ব, ‘ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট’-র প্রধান পদে মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে বুধবার।

এই সমস্ত মনোনয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যকর হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পদে জিন-ক্লড জাংকারের উত্তরসূরী হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছিল, উরসুলা তাদের মধ্যে ছিলেননা। কিন্তু মনোনয়ন দৌড়ে থাকা প্রার্থীদের কাউকে নিয়েই মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় উঠে আসে তার নাম।

শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন পেলে উরসুলাই হবেন প্রতিষ্ঠার পর এই জোটের প্রথম নারী প্রধান। এই পদের মূল দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ইইউ-র বিভিন্ন আইন সংযোজন ও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া, সেগুলো বাস্তবায়ন করা, সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি দেখভাল করা প্রভৃতি।

৬০ বছর বয়সী উরসুলা ভন ডের লেয়েনের জন্ম ব্রাসেলসে। ১৩ বছর বয়সে পরিবারের সাথে জার্মানিতে চলে আসেন উরসুলা। লন্ডনে অর্থনীতি আর হ্যানোভারের চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন তিনি।

২০০৫ সালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের দল ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটস’ (সিডিইউ)-র সদস্য হন উরসুলা। ২০১৩ সালে চ্যান্সেলর মেরকেল উরসুলাকে তার মন্ত্রীসভায় প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেন।

আর তারপর থেকেই জার্মানির অভ্যন্তরে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে উরসুলা ভন ডের লেয়েনের। ইউরোপের সবচেয়ে শিল্পোন্নত এবং সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ হিসেবে জার্মানি ন্যাটোতে তাদের সামরিক অংশগ্রহণ আরও বাড়াক, এমনটাই চেষ্টা করে গেছেন তিনি, যা প্রশংসা কুড়িয়েছে সাধারণ জার্মান নাগরিকদের।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে বেশ কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন উরসুলা।

তার আমলে জানা যায়, প্রতিরক্ষার ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্খা থাকা দেশটির নিজস্ব সামরিক অবস্থা বেশ হতাশাজনক। অত্যাধুনিক সাবমেরিন ও বিমানের যেমন সংকট আছে, তেমনি অপর্যাপ্ততা রয়েছে সৈন্য সংখ্যাতেও।

উরসুলা দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু ঠিকাদারি কাজ নিজেদের পছন্দের কয়েকটি কোম্পানিকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর তদন্তে গত বছর উরসুলাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। উরসুলা দাবি করেছিলেন, অনিয়ম নয়, মন্ত্রণালয়ের কাজ বন্টনের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি হয়েছিল, সেগুলো নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্যক্তিজীবনে উরসুলা ভন ডের লেয়েন সাত সন্তানের জননী। গড়ে দুই সন্তানের দেশ জার্মানিতে যা বেশ আলোচনার খোরাক হয়ে আছে। উরসুলার স্বামী সেইকো ভন ডের লেয়েন একজন পদার্থবিদ, চিকিৎসাশাস্ত্রের অধ্যাপক এবং ব্যবসায়ী।