বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলা

বাগদাদে হামলার শিকার মার্কিন দূতাবাস, প্রবেশপথ আর চেকপোস্টে জ্বলছে বিক্ষুব্ধদের ধরিয়ে দেওয়া আগুন (Image: U.S. Army/ Staff Sgt. Desmond Cassell/ Task Force-Iraq Public Affairs/ Handout via Reuters)

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা করেছে একদল বিক্ষুব্ধ। সম্প্রতি ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর মার্কিন বিমান হামলায় প্রতিবাদে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। রবিবারের ঐ বিমান হামলায় ২৫ জন মিলিশিয়া যোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন।

বাগদাদের অতি সুরক্ষিত গ্রীন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। তবে সবক’টি প্রবেশপথ নিশ্ছিদ্রভাবে বন্ধ থাকায় তারা দূতাবাসে ঢুকতে ব্যর্থ হয়।

বিক্ষোভকারীরা প্রবেশপথের চেকপোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাইরে থেকে দূতাবাস লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। দূতাবাসের ছাদে অবস্থান নেওয়া মার্কিন নিরাপত্তাকর্মীরা এসময় টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের দূতাবাসের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ঘটনাটির জন্য ইরানকে দায়ী করে তিনি এক টুইট বার্তায় লেখেন, “আমাদের কোন স্থাপনায় প্রাণহানি ঘটলে বা ক্ষয়ক্ষতি হলে, তার জন্য পুরোপুরি দায়ী থাকবে ইরান। এটা কোন সতর্কবার্তা নয়, এটা হুমকি”।

প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

গত শনিবার ইরাকের পশ্চিম ও সিরিয়ায় পূর্ব সীমান্ত এলাকা জুড়ে অবস্থিত ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়া গ্রুপ কাতাইব হেজবুল্লাহসহ কয়েকটি সংগঠনের একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। বোমা বর্ষণে ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও সংগঠনগুলোর ২৫ জন সদস্য মারা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এক সপ্তাহ আগে কিরকুকে ইরাকি সেনার ঘাঁটিতে কাতাইব হেজবুল্লাহর চালানো রকেট হামলায় এক বেসামরিক মার্কিন ঠিকাদার নিহত হওয়ার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই হেজবুল্লাহসহ অন্যান্য সংগঠনের ঘাঁটিগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

কাতাইব হেজবুল্লাহর নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিস মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, “… এর পরিণতি ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হবে”।

দূতাবাসে হামলার বিস্তারিত

আগের সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ২৫ মিলিশিয়া যোদ্ধার শেষকৃত্য মঙ্গলবার বাগদাদে অনুষ্ঠিত হয়। শেষকৃত্যের পরই শীর্ষনেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিস ও অন্যান্য কমান্ডারদের নেতৃত্বে সংগঠনটির কয়েক হাজার সদস্য ও সমর্থক বাগদাদের গ্রীন জোনের দিকে রওনা হয়।

গ্রীন জোন পুরো ইরাকের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকাগুলোর একটি। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ছাড়াও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন রয়েছে এই এলাকায়।

কাতাইব হেজবুল্লার কয়েক হাজার সদস্য গ্রীন জোনে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে বাধা দেয়নি। ফলে নির্বিঘ্নেই তারা গ্রীন জোনে ঢুকে মার্কিন দূতাবাসের কম্পাউন্ডের সামনের রাস্তায় পৌঁছে যায়।

এসময় তারা কাতাইব হেজবুল্লাহসহ অন্যান্য সংগঠনের পতাকা নেড়ে, মার্কিন বিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই বিক্ষুব্ধদের একাংশ কম্পাউন্ডের দিকে পাথর, ইটের টুকরো ছুঁড়তে শুরু করে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে, খালি গার্ডরুমগুলোতে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হামলাকারীরা একসময় কম্পাউন্ডের একটি গেট ভেঙে ফেললে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তারা গেটটিকে আলগা করে ভেতরের করিডোরে ৫ মিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়। এই করিডোরটি দিয়েই দূতাবাসের মূল ভবনের দিকে যাওয়া যায়।

এই পরিস্থিতিতে ভেতরে থাকা মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে বিক্ষোভরীদের পেছনে হটিয়ে দেয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্যরা ও দাঙ্গা পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।

গোটা ঘটনায় ভেতরে অবরুদ্ধ থাকা দূতাবাসের কর্মীদের কেউ আহত হননি। অন্যদিকে টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ৫০ জনের মত আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ মুলার ঘটনার সময় দূতাবাসে ছিলেননা। পূর্ব নির্ধারিত ছুটিতে তিনি বাগদাদের বাইরে অবস্থান করছিলেন।