বান্ধবীকে নিয়েই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে উঠলেন বরিস জনসন

(Image : Reuters)

নবনিযুক্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডসকে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রীটের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন।

বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী পদে দলীয়ভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কানাঘুষো চলছিল বরিস জনসন লন্ডনের ঐতিহাসিক ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাস শুরু করলেও ক্যারি সিমন্ড তার সাথে থাকা শুরু করবেন কিনা।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করতে পারছিলেননা অবিবাহিত এই জুটি ডাউনিং স্ট্রিটে একসাথে থাকবেন কিনা। এখন তাদের পক্ষ থেকেই জানানো হল, বরিস ও ক্যারি দু’জনেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্টিটের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন।

এর মাধ্যমে বরিস জনসন পরিণত হলেন ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি অবিবাহিত সঙ্গীকে নিয়ে ডাউনিং স্টিটে বসবাস শুরু করলেন।

(Image : Reuters)

বরিস জনসনের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ম্যারিনা হুইলারের বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই দম্পতির চারটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি টেনে গত সেপ্টেম্বরে বরিস ও ম্যারিনা সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এর কিছুদিন পূর্বেই ক্যারি সিমন্ডসের সাথে বরিসের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল।

ব্রিটেনের বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক চরিত্র বরিস জনসন গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টির নিবন্ধিত সদস্যদের ভোটে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হন। দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সুবাদে প্রধানমন্ত্রী পদেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিযুক্ত হন তিনি। দলীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী জেরেমি হান্টকে পরাজিত করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসনকে।

নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বাকিংহাম প্যালেসে রাণী এলিজাবেথের সাথে দেখা করেন বরিস জনসন। রাণী তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানালে পরদিনই পুরো মন্ত্রীসভা গঠন করে ফেলেন বরিস।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে প্রথামাফিক বক্তৃতা দেওয়ার সময় তার একপাশে জড়ো হওয়া দলীয় নেতা-সমর্থকদের ভিড়ে একেবারে সামনের সারিতেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ক্যারি সিমন্ডসকে। ভাষণ শেষে অবশ্য বরিস জনসন একাই ১০ ডাউনিং স্টিটের সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন, অতীতে দায়িত্বের প্রথম দিনে অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীরা যেখানে নিজেদের পুরো পরিবার নিয়ে বাড়িটিতে প্রবেশ করেছেন।

উল্লেখ্য ক্যারি সিমন্ডস নিজেও একজন রাজনীতিবিদ। ২০১২ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনের সময় কনজারভেটিভ প্রার্থী বরিস জনসনের প্রচার টিমের সক্রিয় সদস্য ছিলেন ক্যারি। মাত্র ২৯ বছর বয়সে কনজারভেটিভ পার্টির ইতিহাসে যোগাযোগ বিভাগের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যারি সিমন্ডস।