বিশ্বজুড়ে মহাসমারোহে পালিত চাঁদে পা রাখার ৫০তম বার্ষিকী

বিশ্বজুড়ে মহাসমারোহে পালিত চাঁদে পা রাখার ৫০তম বর্ষ
(Image : Reuters)

বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় পালন করা হল চাঁদে প্রথমবারের মত মানুষের পা রাখার ৫০তম বার্ষিকী।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ থেকে ‘ঈগল’ নামের মডিউল বিছিন্ন হয়ে অবতরণ করে চাঁদের মাটিতে। এর কয়েক ঘন্টা পর নীল আর্মস্ট্রং ‘ঈগল’ থেকে বেরিয়ে মানব ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। ১৯ মিনিট পর তার সাথে যোগ দেন এডুইন অলড্রিন। অপর নভোচারী মাইকেল কলিন্স তখন অবস্থান করছিলেন মূল মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ এ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ ঐতিহাসিক এই মূহুর্তটির ৫০ বছর পূর্তির দিনটিকে উদযাপনের অংশ হিসেবে আর্মস্ট্রংদের চাঁদের পৃষ্ঠে নামার ও হেঁটে বেড়ানোর পুরো ভিডিও অনলাইনে সম্প্রচার করে। ৫০ বছর আগে এই দৃশ্যগুলোই টেলিভিশনের পর্দায় দমবন্ধ করে সরাসরি উপভোগ করেছিল পৃথিবীর প্রায় অর্ধ-বিলিয়ন দর্শক।

কাকতালীয় সেদিনের সেই শ্বাসরুদ্ধকর চন্দ্রাভিযানের তিন অভিযাত্রীরই জন্ম ১৯৩০ সালে। এদের মধ্যে মাইকেল কলিন্স এবং এডুইন অলড্রিন এখনও বেঁচে আছেন। চাঁদে প্রথম পা রাখা নীল আর্মস্ট্রং প্রয়াত হয়েছেন ২০১২ সালে ৮২ বছর বয়সে।

চন্দ্রাভিযানের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে এক টুইট বার্তায় চাঁদে পা রাখা দ্বিতীয় নভোচারী এডুইন অলড্রিন শনিবার এক টুইট বার্তায় লেখেন, “চাঁদে আমরাই প্রথম পা রেখেছিলাম, ২৫০ মিলিয়ন মার্কিনি সেদিন চোখ রেখেছিল আমাদের ওপর। কিন্তু সত্য হল, এই মিশন ছিল তাদের সবারই। এবং আমেরিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও, যারা আরও একটিবার চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।”

আরেক নভোচারী মাইকেল কলিন্স। দুই সহযাত্রীর মত চাঁদের মাটিতে পা রাখার সুযোগ তিনি পাননি, কারণ অভিযানের সময় কোনও একজনকে মূল মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ এ থাকতে হত সেটি নিয়ন্ত্রণের জন্য। আগে থেকেই সেই দায়িত্বটি বর্তেছিল কলিন্সের কাঁধে। এ নিয়ে অবশ্য কখনো কোন দুঃখ ছিলনা তার। বরং ঐতিহাসিক এই অভিযানের গুরুত্বপুর্ণ অংশ হতে পেরে আজও সমান গর্বিত তিনি।

পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কলিন্স বলেন, “আমি যে মাঝে মাঝেই ওই অভিযানের কথা ভাবি তা নয়। তবে কখনো কখনো রাতের বেলা রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় চাঁদের দিকে তাকালে ভাবি, ওহ! এই সেই চাঁদ। আমি এখানে গিয়েছিলাম!”

কিভাবে দিনটি পালন করল বিশ্ব 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক সমারোহে পালন করা হল চাঁদে পা রাখার ৫০তম বার্ষিকী। তবে প্রধান আয়োজনগুলো স্বাভাবিকভাবেই ছিল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে।

টেক্সাসের হাউসটনে নাসার সদর দপ্তরে ছিল ছোটখাট এক সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন। সামরিক ব্যান্ডের বাজনার তালে তালে অনেকটা নতুন বছর উদযাপনের কায়দায় স্মরণ করা হয় ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সেই দিনটি।

দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে সেদিনের অভিযানে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। আর সেসবের মধ্যমণি ছিল নীল আর্মস্ট্রংয়ের ব্যবহৃত স্যুটটি, যেটি পরেই চাঁদের মাটিতে নেমেছিলেন তিনি।

সিয়াটলের মিউজিয়াম অব ফ্লাইটে প্রদর্শন করা হয় আর্মস্ট্রংদের চাঁদে পা রাখার মূল ভিডিও ফুটেজ।

শুক্রবার রাতে নাসার চন্দ্রাভিযানের বিভিন্ন আলোকচিত্র সংবলিত ১৭ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয় রাজধানীর ওয়াশিংটন মনুমেন্টের দেয়ালে। জড়ো হওয়া দর্শকেরা ন্যাশনাল মল থেকে উপভোগ করেন ব্যতিক্রমী এই পরিবেশনা।

প্যারিসের ‘দ্য গ্র্যান্ড প্যালেস’-এ চাঁদের ওপর এপ্রিলে শুরু হওয়া একটি বিশেষ প্রদর্শনী শেষ হয় হয় গত সোমবার। ভবনের ছাদ থেকে ঝোলানো চাঁদের বিশাল একটি প্রতিকৃতি ছিল আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ।

অনেকটা একই রকম চাঁদের বিশাল এক প্রতিরূপ তৈরি করেন স্পেনের একজন শিল্পী। রাজধানী মাদ্রিদের একটি ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয় শিল্পকর্মটি।

এদিকে চন্দ্রাভিযানের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে কাজাখস্থানের একটি ঘাঁটি থেকে একটি সওজ নভোযানে চেপে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইতালির একদল মহাকাশচারী রওনা হন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেখানে পৌঁছে যায় তিন দেশের নভোচারীরা।