ব্রিটিশ নির্বাচনে বিপুল বিজয় পেলেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

মার্গারেট থ্যাচারের পর কনজারভেটিভদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী বিজয় এনে দিলেন বরিস জনসন (Image: Reuters)

সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের সবচেয়ে নাটকীয় নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয় পেয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি।

৬৫০ আসনের সংসদে দলটি জিতেছে ৩৬৫টি আসন। প্রধান প্রতিদ্বন্দী লেবার পার্টি জয় পেয়েছে ২০২টি আসনে, স্কটল্যান্ডভিত্তিক স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি জিতেছে ৪৮টি আসন আর লিবারেল ডেমোক্রেটদের ঝুলিতে গেছে ১১টি আসন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া, যা সংক্ষেপে ‘ব্রেক্সিট’ নামে পরিচিত, তা যেকোন মূল্যে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বরিস জনসন। আগের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও ব্রেক্সিট নিয়ে চুক্তির ব্যাপারে দেশটির সংসদের সন্মতি আদায় করতে ব্যর্থ হন।

মনে করা হচ্ছে, এবার সংসদে বড়ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সহজেই এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্রেক্সিট কার্যকর করে ফেলতে পারবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

কনজারভেটিভদের বিপুল বিজয়ের বিপরীতে নির্বাচনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দী লেবার পার্টি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফলাফলের স্বাদ পেয়েছে। স্কটল্যান্ডে আধিপত্য বজায় রেখেছে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। ব্রেক্সিটবিরোধী লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি তাদের আগের অবস্থান প্রায় ধরে রেখেছে।

ফল ঘোষণার পর শুক্রবার এক বিজয় সমাবেশে বরিস জনসন বলেন, “আমরা (ব্রেক্সিট) নিয়ে অচলাবস্থা ভাঙব, পথের সব বাধা ধ্বংস করব। নতুন দিনের নতুন ভোর এসেছে”।

লেবার প্রভাবিত অনেক আসনেও কনজারভেটিভদের ভাল ফল করার দিকে ইঙ্গিত করে বরিস বলেন, “আপনি হয়ত আপনার ভোটটি আমাদের ধার দিয়েছেন, আপনি হয়ত নিজেকে ‘টোরি’ (কনজারভেটিভিদের পোশাকি নাম) ভাবেননা, ব্যালট পেপারে কনজারভেটিভদের নামের পাশে চিহ্ন দেওয়ার সময় হয়ত আপনার হাত সংকোচ বোধ করেছে এবং হয়ত পরের নির্বাচনে আবার আপনি লেবারদের দিকে ফিরে যাবেন, কিন্তু এবার আপনি আমার ও আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ”।

প্রধানমন্ত্রী বরিস আরও বলেন, “নির্বাচনের এই ফলাফলের অর্থ হল নির্ধারিত ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর হবে। কোন কিন্তু নেই, কোন যদি নেই। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকা নিয়ে আরও একটি গণভোটের যেসব হুমকি আসছিল, এই ফলাফল তাও থামিয়ে দিল”।

ব্রিটেনের এবারের নির্বাচনের ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল নারীদের ব্যাপক সাফল্য। গত সংসদের সর্বোচ্চ ২০৮ জন নারী সাংসদের রেকর্ড ভেঙে এবার নির্বাচিত হয়েছেন ২২১ জন নারী। অর্থাৎ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ আইনপ্রণেতার এক-তৃতীয়াংশই এখন নারী।