রাশিয়ায় মিনি-সাবমেরিনে আগুন, নিহত ১৪

সেভেরোমোরস্কে নৌঘঁটি (image : Reuters)

রাশিয়ান নৌবাহিনীর গবেষণার কাজে নিযুক্ত একটি সাবমারসিবলে (ছোট সাবমেরিন) আগুন লেগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দূর্ঘটনার কথা জানিয়েছে।

রাশিয়ার জলসীমায় কাজ করার সময় সোমবার অগ্নিকান্ডের এই ঘটনাটি ঘটে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে সাবমারসিবলের ওই ক্রু’রা মারা যান।

দূর্ঘটনা কবলিত সাবমারসিবলটি সম্পর্কে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্থ নৌযানটি পরমাণু শক্তিচালিত একটি মিনি-সাবমেরিন। বিশেষ বিশেষ অভিযান ও গবেষণায় এটিকে ব্যবহার করা হত।

দূর্ঘটনার শিকার সাবমারসিবলটি বর্তমানে রাশিয়ার নৌবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের প্রধান নৌঁঘাটি সেভেরোমোরস্কে রাখা আছে।

অগ্নিকান্ডের সময় সাবমারসিবলটির ভেতরে মোট কতজন ক্রু ছিলেন তা জানায়নি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর। তবে দেশটির গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে ১৪ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আগুন ও ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন, তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

সাবমারসিবল হল ছোট আকারের সাবমেরিন। এগুলো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। বাইরে থাকা জাহাজ থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরিসর ছোট হওয়ায় সাবমারসিবল অল্প সংখ্যক ক্রু বহন করতে পারে। ছোটখাট অভিযানের জন্য সাবমারসিবল ব্যবহার করা হয়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুর্ঘটনাটির পরপরই নিজের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে ক্রেমলিনে ফিরে আসেন। তিনি দুর্ঘটনাটির ব্যাপারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সাথে আলোচনা করেছেন। পুতিন একে রাশিয়ার নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে অভিহীত করেছেন। তিনি নিহত ক্রুদের পরিবারের প্রতি তার গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, অগ্নিকান্ডে নিহতদের মধ্যে রাশিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সন্মাননা পাওয়া সাতজন ক্যাপ্টেন ও দু’জন কর্মকর্তাও আছেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী শোইগুকে অবিলম্বে সেভেরোমোরস্কে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাবমেরিনে আগুন কিভাবে লেগেছিল, তাও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। কতজন আহত হয়েছেন, কতজন অক্ষত রয়েছেন সেসব তথ্যও পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাবমারসিবলটি গোপন এস-১২ ক্যাটাগরিরও হতে পারে। সাধারণত অতি স্পর্শকাতর অভিযানেই এই সাবমারসিবলটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আগুন লেগে ১৮ সাবমারসিবল ক্রুর মৃত্যুর খবর শুনে মস্কোর বাইরে অবস্থান করা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তড়িঘড়ি ক্রেমলিনে ফিরে আসেন। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে তাকে দূর্ঘটনার তদন্তকাজ সরাসরি দেখভালের নির্দেশ দেন। ২০০০ সালের আগস্ট মাসে পুতিনের আমলেই এমনই আরেক সাবমেরিন দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১৮ জন। তিনি সেসময় ছুটিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। এবার আর তিনি সে ভুল করতে চাননা বলেই মনে হচ্ছে।