মিসাইলের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের কথা স্বীকার ইরানের

(File photo: Reuters)

নিজেদের আকাশে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত ও ১৭৬ আরোহীর মৃত্যুর পর থেকে ক্রমাগত অস্বীকার করে আসা ইরান অবশেষে মেনে নিয়েছে যে তাদের ছোঁড়া একটি মিসাইল ভূলক্রমে বিমানটিকে আঘাত হানার কারণেই এটি বিধ্বস্ত হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এক বার্তায় এর জন্য ‘মনুষ্যঘটিত ত্রুটিকে’ দায়ী করেছেন। তিনি একে ‘ক্ষমার অযোগ্য ভূল’ বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উড্ডয়নরত অবস্থায় বিমানটি একটি স্পর্শকাতর সেনা অবস্থানের দিকে মোড় নিলে ভূলবশত একটি ক্রুজ মিসাইল সেটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।

আরও পড়ুন >  ইরানের আকাশে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহী নিহত

বুধবারের এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সূত্র এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সংবাদ সম্মেলন করে এর জন্য ইরানের ছোঁড়া মিসাইলকে দায়ী করলেও ইরান তা অস্বীকার করে আসছিল।

এর কয়েক ঘন্টা আগে ইরাকে অবস্থিত দু’টি মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছিল ইরান। গত সপ্তাহে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাশেম সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই মার্কিন ঘাঁটি দু’টিতে মিসাইল আক্রমণ চালায় দেশটি।

কি ব্যাখ্যা দিচ্ছে ইরান?

ইরানের পক্ষ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক প্রথম বার্তাটি আসে সেনাবাহিনীর তরফে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় জানানো হয়, তাদের ছোঁড়া মিসাইল ভূলক্রমে একটি বিমানকে আঘাত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উড্ডয়নরত বিমানটি দেশটির রেভ্যলুশনারি গার্ডের একটি স্পর্শকাতর সামরিক কেন্দ্রের দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে। সেসময় এটির ওড়ার ধরন এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা কমে আসাকে সন্দেহজনক মনে হয়। ঐ অঞ্চলের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ‘সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ থাকার কারণে বিমানটিকে দ্রুতই ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়।

বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভূলবশত বিমানটি ভূপাতিত করার জন্য ক্ষমাও চাওয়া হয়। এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যৎে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কথাও জানানো হয় এতে।

এর পরপরই ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়ালতুল্লাহ খামেনি, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফও ভুলবশত মিসাইলের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় এতে ১৬৭ জন যাত্রী ও ৯ জন ক্রু ছিল। যাত্রীদের অধিকাংশই ইরান ও কানাডার নাগরিক, বাকিরা সুইডেন, ইউক্রেন, ব্রিটেন, আফগানিস্তান ও জার্মানির।