রাশিয়ার কারাবন্দী প্রধান বিরোধী নেতাকে হঠাৎ হাসপাতালে স্থানান্তর

রাশিয়ার কারাবন্দী প্রধান বিরোধী নেতাকে হঠাৎ হাসপাতালে স্থানান্তর
অ্যালেক্সেই নাভালনি (Image: Reuters)

রাশিয়ার কারাবন্দী প্রধান বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে মস্কোর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

দেশটির কর্তৃপক্ষ নাভালনির শারিরীক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও তার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন অ্যালার্জির প্রভাবে তার মুখ ফুলে গেছে।

অতীতে নাভালনির চোখের চিকিৎসা করা একজন ডাক্তার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, খুব সম্ভবত কোন ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাবে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন।

অনুমতি ছাড়া সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগে অ্যালেক্সেই নাভালনিকে গত সপ্তাহে ত্রিশ দিনের কারাদন্ড দেয় রাশিয়ার একটি আদালত।

শনিবার অনুষ্ঠিত সমাবেশটি থেকে প্রায় ১০০০ বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। রাশিয়ায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী নেতাদের প্রার্থী হতে না দেওয়ার প্রতিবাদে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

কারাবন্দী অবস্থায় কেমন আছেন নাভালনি?

অ্যালেক্সেই নাভালনির একজন মুখপাত্র এক বার্তায় জানিয়েছেন নাভালনি অতীতে কখনো অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেননি। তিনি জানান, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নাভালনির পুরনো একজন চিকিৎসক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এবং তার একজন সহকর্মী হাসপাতালে অ্যালেক্সেই নাভালনির সাথে দেখা করতে গেলেও কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেন। তবে দরজার আড়াল থেকে তিনি নাভালনির মুখ যতটা দেখতে পেরেছেন তাতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নাভালনির ওপর ক্ষতিকর কোন রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

অ্যালেক্সেই নাভালনি রাশিয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে প্রথমবার সবার নজরে আসেন। একসময় তার এই প্রচারণা পরিণত হয় সরকার তথা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিরোধী আন্দোলনে। ২০১১ সালের শীতকালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ আয়োজন করে বিশ্বজুড়ে পরিচিত পান তিনি।

পুতিন বিরোধী এমন কড়া অবস্থানের জন্য আজ পর্যন্ত বহুবার কারাগারে যেতে হয়েছে অ্যালেক্সেই নাভালনিকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমোদনহীন ‘বেআইনি’ জমায়েতের দায়ে। আর এসব কারাদন্ডকে অজুহাত বানিয়ে নাভালনিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে রেখেছে দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে চেয়েও ব্যর্থ হন তিনি।