দক্ষিণ আফ্রিকা‍য় ভোট গণনা শুরু, প্রাথমিকভাবে এগিয়ে এএনসি

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা (Image: Reuters)

গণনা শুরু হয়েছে সদ্য হয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ নির্বাচনে। বিভিন্ন ইস্যুতে চাপে থাকা ক্ষমতাসীন ‘আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ (এএনসি) এর ওপর থেকে মানুষ যেন সমর্থন তুলে না নেন সেজন্য প্রচারে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন দলটি থেকে নির্বাচিত দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাই ক্ষমতাসীন দলটির ওপর এমন চাপের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশ্য এখন পর্যন্ত যে ২৩ শতাংশ জেলার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে স্বস্তিরই আভাস পাচ্ছে এএনসি। ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বেশ ভাল অবস্থানেই আছে দলটি, যেখানে বিরোধী দল ‘ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ এখন পর্যন্ত পেয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ ভোট।

নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেও গতবারের তুলনায় ফল বিপর্যয় হতে পারে এএনসি-র। ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল দলটি।

বৃহস্পতিবার একসাথে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নিবন্ধিত মোট ভোটারের দুই-তৃতীয়াংশ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

২৫ বছর আগে বর্ণবাদী অ্যাপার্থাইড সরকারের বিদায়ের পর এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন। নেলসন ম্যান্ডেলা পরবর্তী যুগে এএনসি-র জনপ্রিয়তা বিভিন্ন সময়েই ক্ষয় হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকেও গেছে দলটি।

কেন ক্ষমা চাইলেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা?

নির্বাচনে নিজের ভোট দেওয়ার সময় গণমাধ্যমের সামনে দেশটিতে বেড়ে চলা দুর্নীতির কথা স্বীকার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

তিনি বলেন, “আমরা কিছু ভূল করেছি, সেসবের জন্য আমরা দুঃখিতও। জনগণকে অনুরোধ করছি আমাদের ওপর তাদের আস্থা পুনঃস্থাপন করতে।’’

অ্যাপার্থাইড সরকারের পতনের পর ১৯৯৪ সালের প্রথম জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সবক’টি নির্বাচনেই জয়ী হয়েছে ‘আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’। টানা ২৫ বছরের শাসনকালে দলটি থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টের আসনে বসেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা ছাড়াও থাবো এমবেকি, জ্যাকব জুমা আর বর্তমানে সিরিল রামাফোসা।

এবারের নির্বাচনে এএনসি-কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় মধ্যপন্থী ‘ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ এবং কট্টর বামপন্থী ‘ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স’।

কেন সমর্থন হারালো এএনসি?

ভোটের লাইনে দাঁড়ানো তরুণ ভোটারদের অনেকেই বলছিলেন চাকরি পেতে তাদের সমস্যার কথা। দক্ষিণের আফ্রিকায় বেকারত্বের হার বর্তমানে ২৭ শতাংশ, এএনসি সরকারের জন্য যা রীতিমত অস্বস্তিকর।

এক তরুণী যেমনটি বলছিলেন, “আমি নিশ্চিত নই পড়াশোনা শেষ করে যেমন চাকরি আমি চাই তেমনটা আদৌ পাব কিনা।’’ থাবো মাখেনে নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বলছিলেন, “আমি এএনসি-র একজন সদস্য, তারপরও এবার দলটিকে ভোট দেইনি। তাদের এখন জেগে ওঠা উচিৎ। তারা যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, যেভাবে রাষ্টীয় তহবিলের অপব্যবহার করেছে, তাতে তাদের নৈতিক পরাজয় হয়েই গেছে।’’

অবশ্য এমন অনেক ভোটারকেও পাওয়া গেল যারা প্রশ্নাতীত সমর্থন জানিয়েছেন এএনসি-র প্রতি।

আবার কেউ কেউ এমনও আছেন যাদের কাছে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে মাথাব্যাথা কম। ৯০ বছর বয়সী এসাও জোয়ানে বলছিলেন, “আমি খুশি এই কারণে যে আমাদের দেশটি এখন কৃষ্ণাঙ্গরাই শাসন করছেন!’’

পরিসংখ্যানে এবারের নির্বাচন

  • মোট ভোটারের সংখ্যা ২৬.৭৬ মিলিয়ন
  • ৫৫ শতাংশ ভোটার নারী
  • রেকর্ড ৪৮ টি দল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে
  • ২৮,৭৫৭ টি নির্বাচনী কেন্দ্র
  • ২২০,০০০ নির্বাচন কর্মী
  • ৬ মিলিয়ন তরুণ এবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধনই করাননি