জনমত জরিপ উলটে সংসদ নির্বাচনে আবার জয়ের পথে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন

(image: Reuters)

অপ্রত্যাশিত এক জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। দেশটির সংসদ নির্বাচনের ফল গণনার শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে, মরিসনের কনজারভেটিভ দলের জোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করতে চলেছে, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৭৬ আসন।

আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা না হলেও প্রধানমন্ত্রী মরিসন শনিবার এক বিজয় ভাষণে বলেন, “আমি সবসময়ই মিরাকেলে বিশ্বাস করি।’’ তিনি ‘নীরব থাকা অস্ট্রেলিয়ান’-দের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এদের ভোটের কারণেই তার নেতৃত্বাধীন জোট জনমত জরিপের ফল ভূল প্রমাণ করে বিজয়ী হতে পেরেছে।’’

নির্বাচনে আগে হওয়া সবক’টি জনমত জরিপ ও নির্বাচনের পর হওয়া বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলোতে আভাস দেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছয় বছর পর ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বিরোধী লেবার পার্টি। তবে শেষমেশ সব জরিপের ফলকে উলটে দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন মরিসন, যদিও সুক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়, মাত্র দু’টো আসন কম পেলে মরিসনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভদের আর সরকার গঠন করা হতনা।

অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ধাক্কায় লেবার দলের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিল শর্টেন। ভবিষ্যৎেও দলীয় নেতার পদে আর প্রতিদ্বন্দীতা করবেন না জানিয়ে শর্টেন বলেন, “এটা পরিষ্কার যে লেবার পার্টি এবার সরকার গঠন করতে সক্ষম হচ্ছেনা।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা হতে আরও কয়েকঘন্টা লাগবে। তবে বেসরকারী ফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন ৭৭টি আসনে জিতেছে বা জিততে চলেছে, বিপরীতে লেবার পার্টির ঝুলিতে সেরকম আসন এসেছে ৬৮টি।

যদি প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের জোট শেষ পর্যন্ত কোনও কারণে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৭৬ আসনে জিততে নাও পারে, তবুও স্বতন্ত্র সাংসদদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা তাদের জন্য সমস্যা হবেনা।

অস্ট্রেলিয়ায় ভোটদান বাধ্যতামূলক। এবছর রেকর্ড ১৬.৪ মিলিয়ন ভোটার ভোট দিয়েছেন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সকল আসনে এবং সিনেটের অর্ধেক আসনে প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য।

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ নির্বাচন হয় প্রতি তিন বছর অন্তর। অন্যান্য দেশের পাঁচ বা চার বছরের তুলনায় যা ব্যতিক্রম। তবে এই অল্প সময়ের জন্যও দেশটির ক্ষমতায় সুস্থির সরকার দেখার ঘটনা বিরল হয়ে পড়েছে। কখনও গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ, কখনও দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ, এসবের জেরে ২০০৭ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার কোন প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।

দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর গত নয় মাসে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে জোটবদ্ধ আছে তার দল লিবারেল পার্টি ও এর স্বাভাবিক মিত্র ন্যাশনাল পার্টি।

এবারের নির্বাচনের আগে হওয়া জরিপগুলোতে দেখা যায়, অর্থনীতির অবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ইস্যু ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। আর তরুণ ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলেছে জলবায়ু পরিবর্তন ও সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি পাওয়ার।