প্রথমবারের মত ব্যাপক আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস পালন যুক্তরাষ্ট্রের

অভূতপূর্ব আয়োজনে নিজেদের স্বাধীনতা দিবস পালন করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ‘স্যালুট টু আমেরিকা’ শিরোনামের এই উদযাপনে দেশটির বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্ট আর আতশবাজি পরিবেশনা উপভোগ করেন দেশটির লক্ষ লক্ষ নাগরিক।

এইসব আয়োজনের উদ্বোধনের জন্য এদিন সকালে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়ালে সমবেত জনতার সামনে উপস্থিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, সস্ত্রীক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ দেশটির গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রায় এক ঘন্টার বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, “আমরা আমাদের ইতিহাস, আমাদের জনগণ আর আমাদের সেইসব নায়কদের স্মরণ করতে চাই, যারা আমাদের পতাকাকে গৌরবের সাথে রক্ষা করে আসছেন।”

পৃথিবীর বহু দেশই জাঁকজমকের সাথে তাদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই ছিল ব্যতিক্রম। এতদিন সাদামাটা আয়োজনের মাধ্যমে ৪ঠা জুলাইয়ে তাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই নির্লিপ্ততা অবসানের সিদ্ধান্ত নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মূল আগ্রহ ছিল ৪ঠা জুলাইয়ে পুরোদস্তুর সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজনের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি উত্তর কোরিয়ার মত দেশ প্রতি বছর চোখ ধাঁধানো কুজকাওয়াজ করতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কেন নয়? বিশেষ করে ২০১৭ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে প্যারিসে বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার পর নিজ দেশেও এমন কিছু একটা করার আগ্রহ বেড়ে যায় তার।

তবে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কুচকাওয়াজের পরিবর্তে শুধু বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শনের ব্যবস্থা করলেন ৪ঠা জুলাই সকালে। আর বিকালের আয়োজন বিরাট আকারে আতশবাজির উৎসব।

আয়োজন

সকালে লিংকন মেমোরিয়ালে বিমানসেনাদের কসরত প্রদর্শনের অনুষ্ঠান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারাদিনের কর্মসূচীর সূচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে জড়ো হন কয়েক লক্ষ মানুষ।

তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “আমরা সকলে মিলে পৃথিবীর অন্যতম সেরা গল্পের অংশ, যে গল্প আমেরিকার।”

ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার ইতিহাস সেইসব সাহসী নাগরিকদের দিয়ে তৈরি, যারা সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎের স্বপ্ন থেকে কখনো পিছিয়ে আসেনি।” তিনি যোগ করেন, “আমরা যতদিন আরও ভাল ভবিষ্যৎের জন্য সংগ্রাম করা না থামাব, ততদিন এমন কিছু নেই যা আমেরিকা অর্জন করতে পারবেনা।

বিভিন্ন সময় ভূল তথ্য টুইট করা বা বক্তব্য দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এদিনের বক্তৃতাতেও একবার দিয়ে বসেন ভূল তথ্য। তিনি বলেন, “১৭৭৫ সালে আমাদের সেনারা বিমান উৎক্ষেপণ করে এবং সর্বত্র বিমানবন্দর স্থাপন করে!”

আদতে বিমান আবিষ্কৃতই হয় এর প্রায় সোয়া একশ বছর পরে ১৯০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাইট ভাতৃদ্বয়ের হাতে। দেশটির কয়েকটি পত্রিকা জানিয়েছে, টেলিপ্রম্পটার থেকে পড়ার সময় ঠিকমত দেখতে না পাওয়ায় হয়ত এমন ভূল করে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

লিংকন মেমোরিয়ালের মূল কাঠামোর ঠিক সামনে স্থাপন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ, যা পুরোটাই মোড়া ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দিয়ে। পুরো এলাকার বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি সামরিক যান স্থাপন করা হয় প্রদর্শনের জন্য।

মঞ্চের সামনের দিকের কয়েক সারি ভিআইপি আসন ছাড়া বাকি পুরো অনুষ্ঠান ছিল সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত। এই অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের অনেকেই রওনা হন ক্যাপিটল হিলের লনে আয়োজিত কনসার্ট উপভোগ করতে, যেখানেই সন্ধ্যায় আবার আয়োজন করা হয় আতশবাজির।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের স্বাধীনতা দিবসের প্রধান আয়োজনের কিছু মুহুর্ত :

(images courtesy: Reuters)