চলে গেলেন ‘আরব বসন্ত’ পরবর্তী তিউনিশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট

বেইজি সাইদ সেবজি (১৯২৬-২০১৯) (Image: Reuters)

তিউনিশিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট বেইজি সাইদ সেবজি মারা গেছেন। ৯২ বছর বয়সী এই নেতা ছিলেন বিশ্বের প্রবীণতম রাষ্ট্রনেতা।

এই দশকের প্রথমার্থে আরব বিশ্বে সংঘটিত বহুল আলোচিত ‘আরব বসন্ত’-র সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালে তিউনিশিয়ায়। ২৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক বেন আলির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিল দেশটির জনগণ। প্রবল গণবিক্ষোভে ২০১১ সালে পদত্যাগে বাধ্য হন বেন আলি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিউনিশিয়ার জনগণের এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই রকম স্বৈরশাসনে অতিষ্ঠ আশেপাশের দেশগুলোর জনতাও নেমে আসে রাজপথে। পুরো আরব অঞ্চলে শাসকদের বিরুদ্ধে এমন স্বতঃস্ফুর্ত জনবিস্ফোরণ স্মরণকালে আর দেখা যায়নি। এটিই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় ‘আরব বসন্ত’ নামে।

তিউনিশিয়ায় বেন আলির পতনের পর ২০১৪ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাতেই জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসেছিলেন বেইজি সেবজি।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রেসিডেন্ট বেইজিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশ্য তার অসুস্থতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সরকার, কোন তরফ থেকেই।

প্রেসিডেন্ট বেইজির মৃত্যুতে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে তিউনিশিয়ায়। দেশটির সংসদের স্পীকার মোহামেদ এন্নাসেউর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট পদে বেইজি সেবজির মেয়াদ এই বছরই শেষ হওয়ার কথা ছিল। অবশ্য তিনি এর আগেই ঘোষণা করেছিলেন, পরবর্তীনির্বাচনে আর প্রার্থী না হওয়ার। আগামী ১৭ নভেম্বর দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্যারিসে পড়াশোনা করা বেইজি সেবজি পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন আইনজীবী। পরবর্তীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিউনিশিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রী এবং সংসদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বেইজি।

২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিউনিশিয়ায় স্থিতিশীলতা আনতে পেরেছিলেন বেইজি সেবজি। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ির জন্য সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে একাধিক জঙ্গি হামলা এবং বেকারত্বসহ দূর্বল অর্থনীতির জন্য কিছুটা চাপেও ছিলেন প্রেসিডেন্ট বেইজি।