জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে হঠাৎ হাজির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে হঠাৎ হাজির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ (Image: Reuters)

এক অনির্ধারিত সফরে ফ্রান্সে চলতে থাকা জি-৭ গোষ্ঠীর শীর্ষ সন্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ।

গত রোববার জাভেদের এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ফ্রান্সের বিয়ারিৎজে আয়োজিত এবারের শীর্ষ সন্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ জি-৭ ভূক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা যোগ দিয়েছেন।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দেশটির দেনদরবার চলছে। দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় দেশের সাথে ইরানের একটি চুক্তি হয় ২০১৫ সালে।

কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর থেকে। ইরানের ব্যাপারে পূর্বসূরী বারাক ওবামা যতটা নরম মনোভাবাপন্ন ছিলেন, ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ততটাই কট্টর।

গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার। আর সেই সাথে সাথে চলতে থাকে ইরানের ওপর দফায় দফায় অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ।

এমন উত্তেজনাকর সম্পর্কের মধ্যেই জি-৭ সন্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আকস্মিক সফরে হতবাক হয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধিরাও।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ রবিবার এক টুইট বার্তায় বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ব্রিটিশ ও জার্মান প্রতিনিধিদের সাথেও তার কথা হয়েছে।

পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ইরানের সাথে করা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলেও বাকি পাঁচ দেশ এখনও চুক্তিটির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এব্যাপারে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখছেন। অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত একের পর এক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও সম্প্রতি তাদের পরমাণু কর্মসূচীতে গতি বাড়িয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর জন্য কাজ কিছুটা জটিল করে তুলেছে।

এদিকে জি-৭ সন্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। ফরাসি কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্টোদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এব্যাপারে কিছুই জানতেননা। বরং সন্মেলনে জাভেদ জারিফের উপস্থিতিতে তারা বেশ আশ্চর্যই হয়েছেন।

এসপ্তাহের পুরোটা জুড়েই ফ্রান্সের বিয়ারিৎজে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত সাত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা বিশ্ববাণিজ্য, আমাজনের দাবানল, ইউক্রেন-লিবিয়া-হংকং পরিস্থিতি, ব্রেক্সিট, ইরানের পরমাণু কর্মসূচীসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করবেন। জি-৭ গোষ্ঠীর এটি ৪৫ তম শীর্ষ সন্মেলন।