এবারে পারস্য উপসাগরে ব্রিটিশ ট্যাংকার আটক করল ইরান

‘স্টেনা ইমপেরো’ নামের এই ব্রিটিশ জাহাজটি আটক করেছে ইরান (Image: Reuters)

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “ইরান যদি পারস্য উপসাগরে তাদের হাতে আটক ব্রিটিশ জাহাজকে ছেড়ে না দেয় তাহলে ‘মারাত্বক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।”

‘স্টেনা ইমপেরো’ নামের জাহাজটির মালিকরা জানিয়েছেন, ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া জাহাজটির সাথে তারা এখন আর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না। আটক হওয়ার সময় জাহাজটিতে মোট ২৩ জন ক্রু ছিল।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আটকের সময় ইরানের চারটি জলযান এবং একটি হেলিকপ্টার ব্রিটিশ জাহাজটিকে ঘিরে রাখে।

এদিকে ব্রিটিশ মালিকানাধীন আরেকটি লিবিয়ান জাহাজও ইরানের হাতে আটক হলেও পরে সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই জাহাজটিতে ২৫ জন ক্রু ছিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একাধিকবার জরুরী বৈঠকে বসে ব্রিটিশ সরকারের আপদকালীন কমিটি ‘কোবরা’।

সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, “ইরানের এমন অগ্রহণযোগ্য পদক্ষেপে ব্রিটিশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর এটি স্পষ্ট একটি আঘাত।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, “এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সকল ব্রিটিশ নৌযানকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি ইরানের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতির সামরিক সমাধানের দিকে যেতে চাইনা, আমরা চাই কূটনৈতিক পথেই এটি মিটিয়ে ফেলতে। দ্রুত তা করা সম্ভব না হলে ‘মারাত্বক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে ইরানকে।”

হান্ট জানান, আটককৃত জাহাজটিতে থাকা ক্রু’রা বিভিন্ন দেশের নাগরিক, এদের মধ্যে একজনও ব্রিটিশ নন।

তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন বলে জানিয়েছেন জেরেমি হান্ট। একই সাথে আন্তর্জাতিক অন্যান্য সহযোগীদের সাথেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেন কথা বলছে বলে জানান তিনি।

স্টেনা ইমপেরো জাহাজটি নিবন্ধিত হয়েছে লন্ডন থেকে। এটি ব্রিটিশ পতাকা বহন করে।

এদিকে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশটির রেভেল্যুশনারি গার্ড ব্রিটিশ ওই জাহাজটিকে আটক করে। তারা আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দর ও সমুদ্র এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আসে ব্রিটিশ ওই নৌযানটি দ্বারা কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা।

এরপরই সেই সংস্থার পক্ষ থেকে দেশটির রেভেল্যুশনারি গার্ডকে অনুরোধ করা হয় ব্রিটিশ জাহাজটিকে পথ দেখিয়ে নিকটবর্তী বন্দরে নিয়ে আসার জন্য যাতে তারা সেখানে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের সুযোগ পায়।

অন্যদিকে রেভেল্যুশনারি গার্ডের নিজস্ব সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটিশ জাহাজটিকে মোট তিনটি নৌবিধি ভাঙার দায়ে আটক করা হয়েছে। প্রথমত, এটি নিজেদের জিপিএস প্রযুক্তি বন্ধ করে রেখেছিল। দ্বিতীয়ত, এটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথের বদলে এর বহির্গমন পথ দিয়ে যাচ্ছিল। এবং তৃতীয়ত, বারবার সতর্ক করা স্বত্ত্বেও এটি সাড়া দিচ্ছিলনা।

ইরানের সাথে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সুত্রপাত গত ৪ জুলাই। ওইদিন ‘গ্রেস-১’ নামের ইরানের একটি জাহাজকে জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে আটক করে ব্রিটেন। তাদের অভিযোগ ছিল, জাহাজটিতে করে সিরিয়ার জন্য তেল নিয়ে যাচ্ছিল ইরান, যা সিরিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী বলে দাবি করে ব্রিটেন।

এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত ইরান যেকোন সময় কোন একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার পাল্টা আটক করার হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই ব্রিটেন পারস্য অঞ্চলে তাদের নৌযান চলাচলের ঝুঁকির মাত্রাসীমাকে ‘সর্বোচ্চ’ পর্যায়ে উন্নীত করে। শেষমেশ সেই আশংকাকে সত্য প্রমাণ করে দু’সপ্তাহের মাথায় ইরানের হাতে আটক হতে হল ব্রিটিশ জাহাজ ‘স্টেনা ইমপেরো’-কে।