২৩ বার মাউন্ট এভারেস্টে চড়ে রেকর্ড গড়লেন নেপালি পর্বতারোহী

(image: Reuters)

৪৯ বছর বয়সী কামি রিতা শেরপা বুধবার সকালে এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখে গত বছর নিজের করা রেকর্ড নিজেই ভাঙেন।

হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্টে ২৩তম বারের মত পা রাখলেন নেপালের কামি রিতা শেরপা। গত বছর ২২তম বার এভারেস্টে উঠে সবচেয়ে বেশিবার এভারেস্টে পা রাখার যে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, বুধবার নিজের করা সেই রেকর্ড নিজেই ভেঙে ইতিহাসের পাতায় আবার নিজের নাম লেখালেন ৪৯ বছর বয়সী এই নেপালি।

ঐতিহাসিক এই অর্জনের ঠিক আগে গত মাসে কামি রিতা শেরপা বলছিলেন, “আমি কখনো রেকর্ড গড়ার জন্য পর্বতে উঠিনি। আমার কাছে এগুলো শুধুই জীবিকার অংশ।’’

হিমালয়ের একজন গাইড হিসেবে দু’দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা কামি প্রথমবার ৮৮৪৮ মিটার উঁচু মাউন্ট এভারেস্টে উঠেছিলেন ১৯৯৪ সালে। একটি পেশাদার অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি সেবার অন্যদের সাথে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চুড়ায় পা রাখেন।

এরপর থেকে এভারেস্টসহ আরও অনেক পর্বত চূড়া জয় করেছেন কামি, যার মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পাকিস্তানের কে-২।

গত বছর ২২তম বার এভারেস্টের শীর্ষে উঠে এককভাবে সর্বোচ্চবার সেখানে ওঠার রেকর্ড গড়েছিলেন কামি। এর আগের ২১তম বারের রেকর্ডটি তার ছিল আরও দু’জন শেরপার সাথে যৌথভাবে।

নেপালের পর্বতারোহী সম্প্রদায় সাধারণভাবে শেরপা নামে পরিচিত। দেশটির বাড়তে থাকা পর্বতারোহন ভিত্তিক পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই শেরপাদের। এভারেস্ট সংলগ্ন উপত্যকায় বহু শতাব্দী ধরে বসবাস করা সুপ্রাচীন এই গোষ্ঠীর কাছে হিমালয়ের রুক্ষ ভূপ্রকৃতি আর এর পথঘাট, আঁকবাঁক যেন হাতের তালুর মত চেনা। হিমালয়ের শত শত ফুট উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতায় অন্যদের থেকে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এরা। শারীরিকভাবে সুঠাম শেরপারা অভিযাত্রীদের ভারী মালপত্র বয়ে নিয়ে যায় অনায়াসে। এসব কারণে বিদেশি পর্যটক আর অভিযাত্রীদের কাছে এদের কদর ব্যাপক। তাই দেশটির প্রশাসনও সরকারিভাবে শেরপাদের যুক্ত রেখেছে নেপালের পর্যটন ব্যবস্থায়। উল্লেখ্য, পর্বতারোহন ভিত্তিক পর্যটন থেকে নেপাল প্রতিবছর প্রায় ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে থাকে। 

নেপালের পর্বতারোহন সংস্থার সাবেক প্রেসিডেন্ট আং শেরিং শেরপা বলছিলেন, “শেরপারা না থাকলে বহু বিদেশি পর্বতারোহীর জন্যই হিমালয়ে অভিযানে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত।’’

“তারা নেপালের পর্বতারোহনের অপরিহার্য অংশ। এই শিল্পকে সচল রাখার জন্য তারা বিরাট ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’’ তিনি অভিযোগ করেন, এতকিছুর পরও সরকার এইসব শেরপাদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং আর্থিক নিরাপত্তা দিচ্ছেনা।

নেপালি প্রশাসন এবছর বসন্তকালে পর্বতারোহনের জন্য প্রতিটি ১১,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে রেকর্ড ৩৭৮টি পারমিট ইস্যু করেছে। প্রত্যেক পর্বতারোহীর জন্য একজন নেপালি গাইড রাখা বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে প্রায় ৭৫০ জন এই মৌসুমে নেপাল থেকে এভারেস্টের পথে যাত্রা করবে। আর চীনের তিব্বত অংশ থেকে আরও প্রায় ১৪০ জন অভিযাত্রী একই উদ্দেশ্যে রওনা হবে।  

অর্থাৎ সব মিলিয়ে নয় শতাধিক পর্বতারোহীর পা পড়তে চলেছে এই বসন্তে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া এবং তার আশপাশের এলাকায়। যা গতবছরের ৮০৭ জনের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড।

১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথমবারের হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের পর থেকেই পর্বতারোহনের জোয়ার শুরু হয় নেপালে। সাম্প্রতিক দশকে তা পরিণত হয় কয়েক মিলিয়ন ডলারের শিল্পে। কর্মসংস্থান হয় বহু মানুষের, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আসে অর্থ, বিশ্বব্যাপী সুনাম ছড়ায় নেপালের। তবে এর ইতিবাচক দিকের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের ফেলে আসা বিপুল পরিমান বর্জ্য এখন দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমালয়ের পরিবেশের জন্য।