বিভিন্ন অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Image: Reuters, Gali Tibbon)

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘুষ লেনদেন, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে উপহার গ্রহণ এবং গণমাধ্যমে নিজের ইতিবাচক খবর বেশি প্রচারের জন্য প্রভাব খাটানোর মত অভিযোগ আনা হয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে নিজের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা’ হিসেবে অভিহীত করেছেন।নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না, কারণ আইনত তিনি পদত্যাগে বাধ্য নন।

টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “অভিযোগকারীরা সত্যের পেছনে ছুটছিলেন না, ছুটছিলেন আমার পেছনে”। তিনি দেশবাসীকে ‘তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত’ করার ডাক দেন।

এর আগে ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাভিচাই ম্যান্ডেলব্লিট প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেন বলেন, “ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আমাকে এই সিদ্ধান্ত (অভিযোগ গঠন) করতে হয়েছে। কিন্তু এটা এও দেখিয়ে দিল যে ইসরায়েলে কেউই আইনের উর্ধ্বে নন”।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এমন এক সময়ে অভিযোগ গঠন করা হল যখন চলতি বছর এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে দু’দফা নির্বাচনের পরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতৈক্যের অভাবে সরকার গড়তে ক্রমাগত ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে দেশটির প্রধান দলগুলো।

সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং বেনি গ্যান্টজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অন্যান্য দলকে সাথে নিয়ে সরকার গড়ার জন্য ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সুযোগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিভেন রিভলিন।

কিন্তু নির্ধারিত সময়েও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে নেতানিয়াহু ব্যর্থ হলে একই সুযোগ দেওয়া হয় তার প্রতিদ্বন্দী বেনি গ্যান্টজকে। কিন্তু প্রায় মাসখানেক চেষ্টার পর গত বুধবার তিনিও নিজের ব্যর্থতার কথা ঘোষণা করেন।

এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট রিভলিন তৃতীয় কাউকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সরকার গঠনের জন্য দেশটির সংসদের প্রতি আহবান জানান। তাতেও ব্যর্থ হলে চলতি বছর তৃতীয়বারের জন্য সাধারণ নির্বাচনের দিকে দেশকে যেতে হবে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

এদিকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে করা এক টুইটে বেনি গ্যান্টজ অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে দিনটিকে ইসরায়েলের অন্য ‘খুবই দুঃখজনক’ হিসেবে অভীহিত করেন।

অভিযোগগুলো কি কি?

গত ফেব্রুয়ারীতে ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাভিচাই ম্যান্ডেলব্লিট জানিয়েছিলেন, মোট তিনটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এগুলো কেস ১০০০, কেস ২০০০ ও কেস ৪০০০ নামে পরিচিত।

কেস ১০০০ : এই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একজন ধনী বন্ধুকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেবার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার কাছ থেকে বহুমূল্য পিঙ্ক শ্যাম্পেইন, সিগারেটসহ বিভিন্ন দামী উপহার গ্রহণ করেছেন।

নেতানিয়াহু এগুলো নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কোন কিছুর বিনিময়ে নয়, বরং বন্ধুর দেওয়া সাধারণ উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।

কেস ২০০০ : এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইসরায়েলের একটি দৈনিক পত্রিকার মালিক তার প্রতিপক্ষ আরেকটি পত্রিকাকে দূর্বল করতে পারে এমন একটি আইন প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে সমঝোতা করেন, যার বিনিময়ে তিনি তার প্রত্রিকায় নেতানিয়াহুর সম্পর্কে ইতিবাচক খবর প্রচার করতে সম্মত হন।

ঐ পত্রিকার মালিক ও নেতানিয়াহু উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা এমন কোন সমঝোতা করেননি এবং প্রস্তাবিত ঐ আইনটি সংসদে পাসও হয়নি।

কেস ৪০০০ : আগের মামলাটির মত এটিতেও একটি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির সাথে নেতানিয়াহুর একটি অনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ আনা হয়। সমঝোতার আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত এমন কিছু সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন বলে স্থির হয় যাতে লাভবান হবে ঐ কোম্পানিটি। বিনিময়ে কোম্পানিটির সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইটে নেতানিয়াহুর সম্পর্কে ইতিবাচক খবর প্রচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নেওয়া ঐ সিদ্ধান্তগুলো বিশেষজ্ঞরাও সমর্থন করেছেন আর সেগুলোর বিনিময়ে তিনি মোটেই কোন সুবিধা নেননি।