ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচন পুনরায় করার নির্দেশ দিল তুরস্কের নির্বাচন কমিশন

Ekrem Imamoglu (image: Reuters)

তুরস্কের সর্বোচ্চ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ঘোষণা করেছে, সদ্য হয়ে যাওয়া ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচনে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ুপ এরদোগানের দলের মেয়র প্রার্থীর পরাজিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে দেশটির বিরোধী দলগুলো।

পুনঃনির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত সোমবার ৭-৪ ভোটে গৃহীত হয় তুরস্কের ‘সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল’- এ। সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ করার পর।

গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেশ অপ্রত্যাশিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্তানবুল এবং রাজধানী আঙ্কারা জিতে নেয় বিরোধী ‘রিপাবলিকান পিপলস পার্টি’ (সিএইচপি)। এটি নিঃসন্দেহে দেশটির পরাক্রমশালী প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (একেপি)-র জন্য একটি বড় ধাক্কা। আঙ্কারায় ভাল ব্যবধানে জিতলেও ইস্তানবুলে বিরোধীদের জয়ের ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। বিজয়ী সিএইচপি-র ৪৮.৭৯ শতাংশের বিপরীতে ক্ষমতাসীন একেপি পায় ৪৮.৫১ শতাংশ ভোট।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৩ জুন আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইস্তানবুলে। একই সাথে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ৩১ মার্চের নির্বাচনে বিজয়ী বিরোধী প্রার্থী ইকরাম ইমামোগলুর মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার সনদ।

সোমবারের এসব ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিরোধীদলগুলো। সিএইচপি-র একজন শীর্ষনেতা বলছিলেন, “যে সিস্টেম জনগণের রায়কে উলটে দিতে চায় এবং আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখায়, তা গণতান্ত্রিকও নয়, বৈধও নয়। এটা স্পষ্ট স্বৈরতন্ত্র।’’

এরদোগানের জন্য ধাক্কা

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এতে ভোটার জালিয়াতির একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকে ক্ষমতাসীন একেপি। এরপর এপ্রিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল-র কাছে আপিল করে ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় তা আয়োজনের।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে জিতে শপথ নিয়ে ততদিনে ইস্তানবুলের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন শুরুও করে দিয়েছিলেন বিজয়ী ইকরাম ইমামোগলু। কিন্তু এখন সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিল-র সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ক্ষমতাসীন দলের আপীল গ্রহণ করে ইকরামের মেয়র পদ খারিজ করে ইস্তানবুলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিল।

৩১ মার্চের নির্বাচনে একেপি-র পরাজয়কে দেখা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়ুপ এরদোগানের জন্য বড়সড় একটি ধাক্কা হিসেবে। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও এতে একেপি-র প্রধান মুখ হিসেবে তাকেই তুলে ধরা হয়েছিল এবং তার সরকারের জনপ্রিয়তার প্রশ্নে এটিকে একটি অঘোষিত গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণ ঘটেছিল নব্বইয়ের দশকে এই ইস্তানবুলেরই মেয়র থাকা অবস্থায়।