রাশিয়ায় পারামাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু

(Image : Reuters)

রাশিয়ায় বৃহস্পতিবার দেশটির নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি প্রশিক্ষণ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। দূর্ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’।

রোসাটম জানিয়েছে, তরল জ্বালানি চালিত একটি প্রোপেলার রকেটের ইঞ্জিন পরীক্ষার সময় দেশটির নিয়োনক্সা এলাকায় এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।

হাসপাতালে ভর্তি আহত তিনজনই আগুনে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

রোসাটম গণমাধ্যমকে জনিয়েছে যে, তাদের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা প্রোপালশন সিস্টেমে আইসোটপ শক্তির উৎস নিয়ে সেখানে গবেষণা চালাচ্ছিলেন।

নিয়োনক্সার পরীক্ষণ স্থলটিতে রাশিয়ার নৌবাহিনীর ব্যবহৃত প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়ে থাকে। এসবে মধ্যে সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও বিমান বিধ্বংসী মিসাইলও রয়েছে।

নিয়োনক্সার ৪৭ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত সেভেরোদভিনস্ক শহরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের দূর্ঘটনার পরপরই ঐ এলাকায় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। তবে মিনিট চল্লিশের মধ্যেই তা আবার পূর্বের অবস্থায় নেমে যায়।

ঘটনার পর ঐ এলাকার আতংকিত নাগরিকদের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক আয়োডিন কেনার হিড়িক পড়ে যায়। জানা গেছে, আরখানজেলস্ক ও সেভেরোদভিনস্ক শহর দু’টির ফার্মেসিগুলোতে থাকা আয়োডিনের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরেনোবিলে (বর্তমানে ইউক্রেনের অন্তর্গত) পারমাণবিক চুল্লিতে ভয়াবহ দূর্ঘটনার পরও তেজস্ক্রিয়তারোধী আয়োডিনের এমন ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছিল। চেরেনোবিলের সেই ভয়াবহ দূর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো ইউরোপ জুড়ে।

নিয়োনস্কে আহতদের সেবা দেওয়া চিকিৎসকদের রাসায়নিক ও পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক স্যুট পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার সেভেরোদভিনস্ক শহরের কর্তৃপক্ষ জানায়, দূর্ঘটনার পরপরই শহরটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক ০.১১ মাইক্রোসিভার্টস থেকে বেড়ে ২ মাইক্রোসিভার্টসে পৌঁছে যায়। এই মাত্রা প্রায় চল্লিশ মিনিট থাকার পরে আবার স্বাভাবিকে নেমে আসে। তবে সেদিনের সর্বোচ্চ মাত্রাটিও তেজস্ক্রিয়তাজনিত শারীরিক অসুস্থতা সৃষ্টির জন্য খুবই কম বিধায় সেখানকার নাগরিকদের কোনরকম স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দূর্ঘটনার কারণে ক্ষতিকর কোন উপাদান পরিবেশে মিশে যায়নি। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।