রাশিয়ায় পাখির সাথে ধাক্কা লেগে ভূট্টাক্ষেতে বিমানের জরুরি অবতরণ

(Image : Reuters)

রাশিয়ায় একঝাঁক পাখির সাথে ধাক্কা লাগার পর গ্রামের এক ভূট্টাক্ষেতে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে একটি যাত্রীবাহী বিমানকে।

পাখিগুলোর সাথে ধাক্কা লাগার পর বিমানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং ল্যান্ডিং গিয়ারও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ভূট্টাক্ষেতের এবড়ো থেবড়ো জমিতে জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে বিমানটি কমপক্ষে ৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু আহত হন।

উরাল এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস ৩২১ বিমানটি রাশিয়ার ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সিম্ফারোপোল শহরের উদ্দেশ্যে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শঙ্খচিল পাখির ঐ ঝাঁকটির সাথে ধাক্কা লাগার ঘটনাটি ঘটে।

রাশিয়ার গণমাধ্যম ভূট্টাক্ষেতে বিমানটির রুক্ষ কিন্তু নিরাপদে অবতরণকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে অভিহীত করছে। ঘটনাটি নজরে এসেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও।

প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ ‘দ্য ক্রেমলিন’ এক বার্তায় যাত্রীদের জীবন রক্ষা এবং বিমানটিকে অবতরণ করতে পারানোর জন্য এর পাইলটদের ‘বীর’ হিসেবে উল্লেখে করে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই এই পাইলটদের রাশিয়ায় বীরত্বের জন্য নির্ধারিত পদকে ভূষিত করারও ঘোষণা দিয়েছে ক্রেমলিন।

আলোড়ন তোলা এই ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুরা সুরক্ষিত থাকলেও যথেষ্ঠ ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে দূর্ঘটনাকবলিত বিমানটিকে। বিধ্বস্থ হওয়া বা অগ্নিকান্ডের মত ঘটনা এড়ানো গেলেও দ্রুত অবতরণ এবং ভূট্টাক্ষেতে বেশ কিছুদূর পর্যন্ত ছিটকে যাওয়ায় এটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে ভবিষ্যৎে বিমানটিকে আর ব্যবহারই করা যাবেনা।

এরই মধ্যে দূর্ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে রাশিয়ার বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিমানটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ২৩০ জন অবস্থান করছিলেন। শঙ্খচিল পাখির দলটি বিমানের সাথে ধাক্কার লাগার সময় কয়েকটি পাখির দেহ এর ইঞ্জিনেও ঢুকে যায়। সাথে সাথে ইঞ্জিনগুলো বিকল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাইলট এবং ক্রুরা বিমানটিকে জরুরি অবিতরণ করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বিমানে থাকা একজন যাত্রী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, “উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি প্রচন্ড ঝাঁকুনি খেতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানের ডানদিকে থাকা লাইটগুলো বারবার জ্বলতে-নিভতে শুরু করে। একই সাথে পোড়ার গন্ধ নাকে আসতে শুরু করে। এর কিছুসময় বাদে তাদের বিমানটি জোরে অবতরণ করে। এরপর সবাই চারিদিকে ছোটাছুটি করতে আরম্ভ করে।”

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবতরণের পর যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৭৪ জন আহতকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে ১৯টি শিশুও ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দূর্ঘটনাকবলিত বিমানটির এমন অভূতপূর্ব অবতরণকে তুলনা করা হচ্ছে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া অনুরূপ একটি বিমানের হাডসন নদীতে জরুরি অবতরণ করানোর ঘটনার সাথে। আশেপাশের এলাকায় বিমান অবতরণের মত বিস্তীর্ণ কোন জায়গা না থাকায় বিমানটির পাইলট সেদিন ঝুঁকি নিয়ে হাডসন নদীতে বিমানটিকে অবতরণ করিয়েছিলেন। পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও কুশলী দক্ষতায় সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বিমানটির শতাধিক যাত্রী।