আসন কমলেও আবারো কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন জাস্টিন ট্রুডো

আসন কমলেও আবারো কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন জাস্টিন ট্রুডো
জাস্টিন ট্রুডো, টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন (Image: Reuters)

আগেরবারের চেয়ে আসন কমে গেলেও কানাডায় আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন দেশটির ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

৩৩৮ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য যেখানে ১৭০ আসন দরকার, সেখানে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টি জিতেছে ১৫৭ আসন।

অর্থাৎ মাত্র ১৩ টি আসনের জন্য এককভাবে সরকার গড়তে পারছেনা ক্ষমতাসীন দলটি। অবশ্য ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গঠন করতে সমস্যা হবেনা প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর।

এর আগে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে ১৭৭ আসন জিতে একাই সরকার গঠন করেছিল লিবারেল পার্টি। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন দেশটির কিংবদন্তী সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে জাস্টিন ট্রুডো।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদল কনজারভেটিভ পার্টির আসন গতবারের পাওয়া ৯৫ থেকে বেড়ে এবার  হয়েছে ১২১।

এবারের নির্বাচনটিকে দেখা হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হিসেবে। প্রথম মেয়াদের প্রায় পুরোটা জুড়েই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন ট্রুডো। তবে শেষ পর্যন্ত আসন ও ভোটের হার কমলেও নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলনা তাকে।

তবে এককভাবে সরকার গড়তে না পারায় আগামী পাঁচ বছর যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শরিক দলের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে থাকতে হবে তাকে।

এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশ।

পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসার আগেই উদযাপন শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির সমর্থকেরা। এতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো নিজেও।

মন্ট্রিয়ালে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রুডো বলেন, “আপনারা করে দেখিয়েছেন বন্ধুরা। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য।” যারা তার দলকে ভোট দেয়নি তাদের জন্যও কাজ করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো।

কেন কমল জাস্টিন ট্রুডোর জনপ্রিয়তা?

২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার সময় জাস্টিন ট্রুডো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কানাডায় ‘প্রকৃত পরিবর্তন’ আনার এবং ইতিবাচক উন্নয়নের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে চার বছরে তা করতে গিয়ে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তরুণ এ প্রধানমন্ত্রী।

উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় বিতর্কিত ট্রান্স মাউন্টেইন পাইপলাইন প্রকল্প সম্প্রসারণে তার সমর্থনের কথা। পরিবেশবাদীরা বহুদিন ধরেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবাহিত তেল ও অন্যান্য উপাদান আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার পরিবেশ ও স্পর্শকাতর জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।

উদারপন্থী ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ট্রুডো এই প্রকল্পে সমর্থন দিয়ে পরিবেশবাদীসহ দেশটির অনেকেরই বিরাগভাজন হন।

এবছরের শুরুর দিকে অবকাঠামো নির্মাণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে চলা মামলায় অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে জাস্টিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে।

এবারের নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর পুরনো কিছু আলোকচিত্র প্রকাশ্যে আসে। এগুলোতে ছাত্রাবস্থায় জাস্টিন ট্রুডোকে মুখে ও শরীরে কালো রঙ মেখে কৃষ্ণাঙ্গ সেজে একটি পার্টিতে অংশ নিতে দেখা যায়। ছবিগুলো প্রকাশ হতেই বর্ণবাদের অভিযোগে তীব্রভাবে সমালোচিত হন তিনি। অবশ্য দ্রুতই অভিযোগ মেনে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে এত বিতর্কের পরও কানাডার প্রভাবশালী এক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত নির্বাচনের আগে করা নিজের অঙ্গীকারগুলোর ৯২ ভাগই আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে পূরণ করতে পেরেছে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার। যে হার গত ৩৫ বছরে কানাডার সবক’টি সরকারের মধ্যে সর্বোচ্চ।

হয়ত এসব কারণেই বিস্তর আলোচনা, সমালোচনা স্বত্তেও দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ওপরেই আরেকটিবার আস্থা রাখল কানাডার সাধারণ মানুষ।