সমালোচনার মুখে নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রে জি-৭ সন্মেলন বাতিল ট্রাম্পের

সমালোচনার মুখে নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রে জি-৭ সন্মেলন বাতিল করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সমালোচনার মুখে সরে আসলেন আগের সিদ্ধান্ত থেকে (Image: Reuters)

ব্যাপক সমালোচনার পর আগামী বছরের জি-৭ শীর্ষ সন্মেলন ফ্লোরিডায় নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পরপর করা কয়েকটি টুইট বার্তায় নিজের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর জন্য তিনি ডেমোক্রেট এবং গণমাধ্যমের ‘উন্মত্ত ও অযৌক্তিক শত্রুতা’-কে দায়ী করেন।

সমালোচকরা দাবি করে আসছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐ সিদ্ধান্ত নিজের ব্যবসায়িক লাভের জন্য রাষ্ট্রীয় পদের অপব্যবহার করার প্রমাণ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জি-৭ সন্মেলনের নতুন ভেন্যু হিসেবে ক্যাম্প ডেভিড ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছিল, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ গোষ্ঠীর শীর্ষ সন্মেলন ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল’-এ আয়োজন করা হবে।

এ ঘোষণার পরপরই সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহল থেকে। কংগ্রেসের সদস্যরাও প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়। তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্যও ছিলেন।

নিজের সিদ্ধান্ত বাতিলের পর করা টুইটগুলোর একটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, “তার অবকাশযাপন কেন্দ্রটি ছিল বিশাল, পূর্ণাঙ্গ। এর সাথে এতে ছিল ‘অসাধারণ সব বলরুম আর মিটিংরুম’।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আমি ভেবেছিলাম আমার ‘ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল’ ব্যবহার করতে দিয়ে আমি দেশের জন্য খুব ভাল কিছু করছিলাম। কিন্তু যেমনটা হয়, শত্রুতাপূর্ণ গণমাধ্যম আর তাদের ডেমোক্রেট সহযোগীরা ‘উন্মত’ হয়ে পড়েছে।”

এর আগে অবকাশযাপন কেন্দ্র ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়ার সময় হোয়াইট হাউজের ভারপ্রাপ্ত চিফ অফ স্টাফ বলেছিলেন, জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে আয়োজনে যা খরচ হবে, সরকারের কাছ থেকে ‘ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল’ শুধু সেটুকুই গ্রহণ করবে। সুতরাং এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোন সুযোগ নেই, বরং রাষ্ট্রের কয়েক মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, সরাসরি আর্থিক সুবিধা না নিলেও জি-৭ শীর্ষ সন্মেলন আয়োজনের সুবাদে বিশ্বব্যাপী ‘বিনা পয়সায়’ বিজ্ঞাপন হয়ে যাবে ট্রাম্পের এই অবকাশযাপন কেন্দ্রের, যার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক মূল্য অপরিমেয়।

অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল’ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • ৮০০ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত সুবিশাল এই কেন্দ্রে রয়েছে ৫টি গলফ কোর্স, ৭০০টি হোটেল রুম, একাধিক কনফারেন্স রুম আর বলরুম। বলরুমগুলোর একটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা।
  • মায়ামি বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অবকাশযাপন কেন্দ্রটি।
  • ২০১২ সালে পূর্বতন মালিকের দেনাগ্রস্থ এই কেন্দ্রটি কিনে নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে শুধু সমালোচনাই নয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশের সংবিধান লঙ্ঘনেরও গুরুতর অভিযোগ এনেছে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা। মার্কিন সংবিধানে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোন বিদেশি সরকার বা সরকারসমূহের কাছ থেকে কোন আর্থিক ‘লাভ বা সুবিধা’ পাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেখানে কংগ্রেসকে না জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের বাণিজ্যিক অবকাশযাপন কেন্দ্রে জি-৭ সন্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ ডেমোক্রেটদের।

মনে করা হচ্ছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে বিতর্কিত এক ফোনালাপকে কেন্দ্র করে এমনিতেই অভিশংসনের ঝুঁকিতে থাকা ট্রাম্প নতুন করে আর কোন সাংবিধানিক ঝামেলায় জড়াতে চাননি। তাই বিতর্ক শুরু হওয়ার পরপরই দ্রুত জি-৭ এর জন্য নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্র ব্যবহারের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিলেন তিনি।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭ এর পরবর্তী শীর্ষ সন্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সদস্য দেশগুলো প্রতিবছর পালাক্রমে নিজ নিজ দেশে এই সন্মেলন আয়োজন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ জি-৭ এর শীর্ষ বৈঠক বসেছিল ২০১২ সালে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সভাপতিত্বে সন্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছিল দেশটির রাষ্ট্রীয় অবকাশযাপন কেন্দ্র ঐতিহাসিক ক্যাম্প ডেভিডে।