প্রয়োজনে ইরানি প্রেসিডেন্টের সাথেও আলোচনায় বসতে রাজি ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রয়োজনে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথেও আলোচনায় বসতে রাজি ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি (Image: Reuters)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম বলেছেন, পরিস্থিতি অনূকুল হলে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাথে আলোচনায় বসতে তার আপত্তি নেই।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে গত রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের আকস্মিক উপস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিলেন।

পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্টসহ ছয় দেশের হওয়া চুক্তি থেকে গত বছর বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সাথে এ সংক্রান্ত আরেকটি নতুন চুক্তি করার ব্যাপারে তার ‘ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’ রয়েছে।

জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সাথে এক যৌথ সংবাদ সন্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আড়াই বছর আগে যখন আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখনকার ইরান আর এখনকার ইরান এক নয়।”

তিনি যোগ করেন, “আমি বিশ্বাস করি, ইরান অসাধারণ একটি দেশ হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারবেনা।”

এর কয়েক ঘন্টা আগেই ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছিলেন, তিনি যেকারো সঙ্গেই বৈঠকে বসতে প্রস্তুত, যদি তাতে ইরানের মঙ্গল হয়।

এর আগে ফ্রান্সের আমন্ত্রণে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জি-৭ শীর্ষ সন্মেলনে যোগ দিয়ে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির কর্মকর্তাদের সাথে পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা করেন।

নতুন কোন চুক্তি হলে ঠিক কেমন হবে সেটি?

২০১৫ সালের ইরানের সাথে ছয় জাতির চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ইরান আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের জন্য তাদের পরমাণু গবেষণার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে। বিনিময়ে তাদের ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছিল, ইরান আর কখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবেনা। পরমাণু বোমার উপযোগী প্লুটোনিয়াম তৈরি থেকেও দেশটিকে বিরত রাখার ধারা সংযুক্ত ছিল চুক্তিটিতে। একই সাথে বেসামরিক কাজে নিয়োজিত পরমাণু গবেষণা কর্মসূচী নজরদারিতে রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দেশটিতে নিয়মিত সফরের অনুমতি দেওয়ার শর্তও ছিল তাতে। আর এই সবক’টি শর্ত মেনেই ছয় দেশের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল ইরান।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গত বছর চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিটির কিছু ধারাকে ‘অন্যায্য’ দাবি করে আরও ১২টি শর্ত সংযুক্ত করে ইরানের সাথে সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি চুক্তি করার দাবি তোলে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন ওই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ব্যালাস্টিক মিসাইল কর্মসূচীতে রাশ টানা এবং আরব ও পারস্য এলাকার আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে ইরানের না জড়ানো।

সোমবারের যৌথ সংবাদ সন্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, “যদি ইরানের সাথে নতুন কোন চুক্তি হয়, তাহলে তা হতে হবে ‘পরমাণু অস্ত্রহীন’ ও ‘ব্যালাস্টিক মিসাইলহীন’ (একটি চুক্তি)… এবং সেটাও দীর্ঘ সময়ের জন্য।’

ইরান অবশ্য আগে থেকেই চুক্তিতে নতুন শর্ত আরোপের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। ব্যালস্টিক মিসাইল কর্মসুচী নিয়ন্ত্রণ করার মার্কিন দাবিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেছেন, “আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই যে ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবেনা। তবে তার বিনিময়ে দেশটির মানুষ ‘অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ’ স্বরূপ কিছু চাইতেই পারে।”

ইরান নিয়ে গত কয়েকদিন নরম মনোভাব দেখানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এব্যাপারে বলেছেন যে, পরমাণু কর্মসূচী ত্যাগের বিনিময়ে অন্যান্য দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ, তেল নিরাপত্তাসহ নিজেদের অর্থনীতিকে সচল রাখার মত বিষয়গুলো ইরান পেতে পারে কিনা সেই ব্যাপারে আলোচনা চলছে।