কোরিও সীমান্তে কিম জং উনের সাথে হাত মেলাতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

কোরিও সীমান্তে কিম জং উনের সাথে হাত মেলাতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
(Image: Reuters/ Jacquelyn Martin-Pool)

যখন তখন অপ্রত্যাশিত ঘোষণা দিতে জুড়ি মেলা ভার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিশ্ববাসীকে চমকে দেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত তিনি এর আগেও নিয়েছেন, এবার নিলেন আরও একটা।

জি-২০ শীর্ষ সন্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে জাপানের ওসাকায় অবস্থান করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকে তিনি যাবেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেই সফরে তার বহুল আলোচিত ‘ডি-মিলিটারাইজড জোন’ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার স্থলসীমান্ত কাঁটাতারের দুর্ভেদ্য বেড়া, অসংখ্য মাইন আর সাঁজোয়া অস্ত্রে সজ্জিত দু’পক্ষের হাজার হাজার সৈন্য দিয়ে মোড়া। এপারের বা ওপারের, কোন নাগরিকেরই সাধ্য নেই কারও চোখ ফাঁকি দিয়ে পারাপার হয়। এই ভয়ংকর সুরক্ষিত সীমানাটিরই আনুষ্ঠানিক নাম ‘ডি-মিলিটারাইজড জোন’ (ডিএমজেড)। প্রাচীন অবিভক্ত কোরিয়াকে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিও যুদ্ধের পর এই ডিএমজেড দিয়েই উত্তর ও দক্ষিণ বরাবর দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

এই দীর্ঘ সীমান্তে কেবল একটিই জায়গা আছে যেখানে দু’পক্ষ সামনাসামনি বসে কথা বলতে পারে, উত্তেজনা দেখা দিলে তা নিরসনে আলোচনায় বসতে পারে। পরপর স্থাপিত নীলরঙের কয়েকটি একতলা ঘরের এই স্থানটির নাম ‘জয়েন্ট সিকিউরিটি এরিয়া’ (জেএসএ)। এখানেই গতবছর প্রথমবার বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। আর এবার সেই একই জায়গাতে কিম জং উনের সাথে হাত মেলানোর ইচ্ছার কথা এক টুইট বার্তায় জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘খুবই আকর্ষণীয়’ বলে মন্তব্য করেছে।

দুই শীর্ষ নেতা যদি সত্যিই ডিএমজেড-এ মুখোমুখি হন তাহলে এটি হবে তাদের মধ্যকার তৃতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে দু’দফা বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প ও কিম।

তবে এবার দু’নেতার দেখা হলেও সেটা হবে খুব অল্প সময়ের জন্য। ফলে আনুষ্ঠানিক এবং বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকছেনা। তারপরও ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য সাহায্য করতে পারে কয়েক মিনিটের এই মুখোমুখি সাক্ষাৎ।