বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরুর ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং (Image- Reuters-Thomas Peter)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের মধ্যে থেমে থাকা বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। বাণিজ্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যকার তীক্ততার জেরে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি বিগত কয়েকমাস ধরেই স্থবিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

জাপানের ওসাকাতে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সন্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক এক বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর সেখানেই গত কয়েকমাস ধরে একে অন্যের ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পাল্টাপাল্টি যুদ্ধের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন এই দু’নেতা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠকেই তাৎপর্যপূর্ণ আরও একটি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, চীনের শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হুয়াইয়ের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা তিনি আরোপ করেছিলেন তা শিথিল করা হল। ফলে এখন থেকে চীন হুয়াইয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কিনতে পারবে।

এর মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন চীনের ওপর আরও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চাপানোর। তবে জি-২০ সন্মেলনের মাঝে হওয়া সফল বৈঠকের পর সে অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি জানান, চীনের ওপর প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক তিনি আর বসাচ্ছেন না। একইসাথে বাণিজ্য নিয়ে চীনের সাথে ভবিষ্যৎে আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান ট্রাম্প।

চীন-মার্কিন শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যে জমা বরফ গলানোকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সফলতা হিসেবে দেখাতে চাইলেও এর বিনিময়ে হুয়াইকে নিয়ে চীন যা চেয়েছিল তা মেনে নিতে হয়েছে তাকে।

যদিও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি হুয়াইয়ের ওপর মার্কিন বাণিজ্য দফতরের জারি করা সেই নিষেধাজ্ঞার পুরোটাই ট্রাম্প বাতিল করেছেন কিনা। তবে যদি নাও করে থাকেন তবুও সেটি হবে একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। কারণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় হুয়াইয়ের পণ্যে ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশ্ন উঠছে, সেই হুমকিকেই কেন আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন ট্রাম্প? নাকি হুমকির অভিযোগটি ছিল হুয়াইকে নিষিদ্ধ করার জন্য নিছকই অজুহাত?