মার্কিন হামলায় নিহত হলেন লাদেনপুত্র হামজা বিন লাদেন

মার্কিন হামলায় নিহত হলেন লাদেনপুত্র হামজা বিন লাদেন
হামজা বিন লাদেন (Image : CIA)

সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘আল কায়েদা’-র প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের পুত্র হামজা বিন লাদেন মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম।

অবশ্য ঠিক কবে এবং কোথায় লাদেনপুত্র নিহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি সংবাদ মাধ্যমগুলো। পেন্টাগনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ও এব্যাপারে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।

পিতা ওসামা বিন লাদেনের মত পুত্র হামজাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অডিও ও ভিডিও বার্তার  মাধ্যমে  যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য আহবান জানিয়ে আসছিল।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমশ বিপদজনক হয়ে ওঠা ৩০ বছর বয়সী এই যুবকের ব্যাপারে কোন তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরষ্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

হামজা বিন লাদেনের মৃত্যুর খবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে এনবিসি নিউজ, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএন সহ শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যম।

তাদের ছাপানো প্রতিবেদনে বলা হয়, আল কায়েদার গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হতে চলা হামজা গত দুই বছরের মধ্যে কোন এক সময় একটি সামরিক অভিযানে নিহত হন। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী এই অভিযানটিতে সম্পৃক্ত ছিল। অবশ্য অভিযান এবং তাতে হামজার নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় জানাতে পারেনি গণমাধ্যমগুলোর কোনটিই।

এদিকে লাদেনপুত্র হামজার নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই রকম নীরবতা বজায় রেখেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনও।

এমনকি আল কায়েদার তরফ থেকেও এখন পর্যন্ত এব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে উগ্রবাদী সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের কোন নেতার মৃত্যুর খবর সামনে এলে দ্রুতই অডিও, ভিডিও বা ওয়েব বার্তার মাধ্যমে তা স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। তবে এবার হামজা বিন লাদেনের নিহত হওয়া নিয়ে একাধিক প্রথম সারির সংবাদ সংস্থা প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খোলেনি আল কায়েদা।

ওসামা বিন লাদেন ও আল কায়েদা

২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন কমান্ডো বাহিনীর অতর্কিত অভিযানে নিহত হন আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা ওসামা বিন লাদেন। বহু বছর ধরেই তার পরিকল্পনা ও নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান হাজার হাজার মানুষ। আর ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আল কায়েদার হামলা তো স্মরণকালের মানব ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

মূলত টুইন টাওয়ারে হামলার পরপরই লাদেনকে ধরতে উঠেপড়ে লাগে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে আক্রমণ হানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সমমনা দেশগুলোর যৌথ বাহিনী। এতে আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের পতন এবং আল কায়েদাকে তছনছ করে দেওয়া সম্ভব হলেও অধরাই থেকে যান এর শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন।

অবশেষে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে সন্ধান পাওয়া যায় ওসামার। ততদিনে জর্জ বুশের মেয়াদ শেষ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেছেন বারাক ওবামা। তার নির্দেশেই ওই বাড়িতে অভিযান চালায় মার্কিন বিশেষ বাহিনী। অবশ্য জীবিত ধরা যায়নি তাকে। পাল্টা আক্রমণ করার চেষ্টার কারণে তাকে গুলি করে মেরে ফেলতে হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হলেও অনেকের মতে ওসামাকে জীবিত ধরার কোন উদ্দেশ্যই ছিলনা মার্কিন বাহিনীর। তাকে ওই বাড়িতেই মেরে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েই তারা অভিযানটি চালিয়েছিল।

ওসামা বিন লাদেনের মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন এক রণতরীতে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে সাগরে নামিয়ে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল যথাযথ ধর্মীয় ও মানবিক রীতিনীতি মেনেই। লাদেনকে সাধারণভাবে সমাধিস্থ করা হলে তার কবরকে মাজারে পরিণত করে ওসামার অনুসারীরা সেটিকে কেন্দ্র করে আবার সংগঠিত হতে পারে, এই আশঙ্কাতেই তাকে সলিল সমাধি দেওয়া হয়েছিল বলে পরে জানিয়েছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। 

হামজা বিন লাদেন

ওসামার বিন লাদেনের মৃত্যুর পরপরই তার উত্তরসূরী হিসেবে উঠে আসে তার পুত্র হামজা বিন লাদেনের নাম। ওসামা যেখানে নিহত হন, সেই অ্যাবোটাবাদের বাড়ি থেকে যেসব নথি ও কম্পিউটার উপকরণ জব্দ করা হয়েছিল, সেগুলোতেও আল কায়েদার পরবর্তী নেতা হিসেবে হামজাকে গড়ে তোলার আলামত পাওয়া যায়।

তখন থেকেই মার্কিন গোয়েন্দাদের নজরে পড়েন হামজা। মার্কিন বিরোধী তৎপরতার জেরে একসময় তাকে জন্মস্থান সৌদি আরব থেকেও বহিস্কার করা হয়।

এরপর থেকে কখনও শোনা যায় তিনি আছেন ইরানে, কখনও তাকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে দেখতে পাওয়ার দাবি ওঠে। এভাবেই গোয়েন্দাদের চোখে ফাঁকি বেশ কয়েক বছর ধরে আত্মগোপন করে ছিলেন হামজা বিন লাদেন।