এবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

এবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ (Image - Reuters)

এবারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জাভেদ জারিফের কোন সম্পত্তির মালিকানা আর তার হাতে রইলনা।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন ম্নুচিন এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, “ইরানের পররাষ্টমন্ত্রী জারিফই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির ‘বেপরোয়া’ কর্মসূচীগুলো প্রচার ও প্রসারে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। এ কারণেই তাকে শাস্তির আওতায় আনা হল।”

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ পাল্টা জবাবে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থানেষী তৎপরতার জন্য আমি হুমকি বলেই তারা আমার ওপর এই অবরোধ জারি করেছে।”

২০১৫ সালে ইরানের সাথে হওয়া ছয় দেশের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশটির সাথে মার্কিন প্রশাসনের বিরোধ চরমে ওঠে। ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারা ঠেকাতেই ওই চুক্তি করা হয়েছিল। একের পর এক আর্থিক অবরোধে বিপর্যস্ত ইরানও নিজের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের স্বার্থে চুক্তিতে রাজি হয়।

তবে গেল বছর চুক্তিটি থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই এর ভবিষ্যৎ নিয়েই সৃষ্টি হয় শঙ্কার।

গত কয়েক সপ্তাহে আরব অঞ্চলের সাগরপথে দেখা দিয়েছে নতুন উত্তেজনা। প্রথমে বিভিন্ন দেশের চারটি জাহাজে নাশকতা, এরপর ব্রিটেন ও ইরানের পাল্টাপাল্টি একে অন্যের নৌযান আটক করা, সাথে কয়েক দিন পরপর ওই এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ, টহল জাহাজ ও বাড়তি সেনা পাঠানোয় পারস্য অঞ্চলজুড়ে দেখা দিয়েছে যুদ্ধের শঙ্কা।

জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কি বলছে যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন ম্নুচিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে অভিহীত করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্ঠীর ‘বৈশ্বিক মুখপাত্র’ হিসেবে।

তিনি বলেন, “ইরানের সরকার যখন দেশটির জনগণের সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারে নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করছেন, তখন সেগুলো ব্যবহার করেই ইরানি শাসকদের মিথ্যা প্রচারণা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন জাভেদ জারিফ।”

শুনে কি প্রতিক্রিয়া দিলেন জাভেদ জারিফ?

জারি করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ দাবি করেছেন, “ইরানের বাইরে আমার আর কোথাও কোন সম্পত্তিও নেই, স্বার্থও নেই। ফলে মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞায় আমার বা আমার পরিবারে কোনই প্রভাব পড়বেনা।”