চীনের আপত্তি স্বত্তেও তাইওয়ানকে ৬৬টি যুদ্ধবিমান বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি এফ-১৬সি/ডি যুদ্ধবিমান বিক্রি করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার একথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এই ঘোষণা এমন এক সময় এল যখন চীনের সাথে বাণিজ্য, হংকংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং এর মধ্যে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবটি অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলেও চীনের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের আবহে যেকোন সময় এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও দিতে পারে।

তাইওয়ানের সাথে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটাই হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক লেনদেন। চুক্তিটি নিয়ে চীনের সাথে তাদের আবার নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশংকা রয়েছে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও প্রদেশ হিসেবে দেখে চীন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়।

তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তা নিয়ে কড়া নিন্দা জানিয়ে এসেছে চীন।

গত শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, “তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির এই সিদ্ধান্ত চীনের সার্বভৌমত্ব ও এর মৌলিক চেতনাকে অবজ্ঞা করার শামিল।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই সিন্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে চীন। আমরা অবিলম্বে তাইওয়ানের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির এই সমঝোতা বাতিল করার এবং তাইওয়ানের সাথে সবরকম সামরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।”

মুখপাত্র বলেন, “এটা সবার জেনে রাখা উচিৎ যে তাইওয়ান ইস্যু চীনের সার্বভৌমত্বের সাথে জড়িত।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা বন্ধ না করলে এর পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী থাকতে হবে।”

তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি যুদ্ধবিমান বিক্রির এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে দেশটির কংগ্রেস। রিপাবলিকান দলের সাথে সাথে ডেমোক্রেটরাও ভোট দিয়েছে এই প্রস্তাবটির পক্ষে।

তাইওয়ানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান থাকাটা চীনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তাইওয়ান প্রণালী, যেটি চীনের সাথে তাইওয়ানকে বিভক্ত করে রেখেছে, সেখানে শক্তিশালী সামরিক ব্যুহ তৈরি করে রাখার কাজে এসব যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সময় কেনা যুদ্ধজাহাজসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তাইওয়ানকে সাহায্য করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪০ বছরের পুরনো ‘তাইওয়ান রিলেশন্স অ্যাক্ট’-র আওতায় নিয়মিতভাবে তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। চীনও ক্রমাগতভাবে এসব সামরিক লেনদেনের বিরোধিতা করে এসেছে।

এর আগে গত মাসেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অব্রামস ট্যাংক ও বিমান বিধ্বংসী মিসাইল  বিক্রির একটি চুক্তি করে।