‘অনলাইনে সন্ত্রাস প্রচার’ বন্ধে নিউজিল্যান্ডের উদ্যোগে যোগ দেবেনা যুক্তরাষ্ট্র

নিউজিল্যান্ড ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া এক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিশ্বের প্রথম সারির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর সাথে একযোগে কাজ করবে, যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রচার ও বিস্তার ঘটাতে না পারে।

বুধবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র যদিও এখনই এমন কোন উদ্যোগে শামিল হওয়ার মত অবস্থানে নেই, তবুও এই প্রচারণার সার্বিক উদ্দেশ্যের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমরাও বিভিন্ন দেশের সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজকে ইন্টারনেটে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে যুক্ত করার কাজ অব্যাহত রাখব।’’

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডের্ন ও ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো গত বুধবার প্যারিসে এক সম্মেলনে ‘ক্রাইস্টচার্চ কল’ নামের এই কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এলিজি প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই সন্মেলনে যোগ দেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত ১৫ মার্চ সংঘটিত ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৫১ জনের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই ‘ক্রাইস্টচার্চ কল’ প্রচারণার উদ্যোগ নেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, সাথে যুক্ত হন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসের শিকার হওয়া দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্ত হামলাকারী বহুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে গেছেন, এমনকি হামলার পুরো ঘটনা ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচারও করেছেন।

হামলার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। এর প্রেক্ষিতে যোগাযোগ মাধ্যমটিতে ঘুরতে থাকা হামলার ১.৫ মিলিয়ন ভিডিও মুছে ফেলে এবং ১.২ মিলিয়ন ভিডিও আপলোড করা আটকে দেয় ফেসবুক।

এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেটে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রচার ও প্রসার আগে থেকেই ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডের্ন যেমনটা বলছিলেন, “যখন পরিস্থিতি এমন হয়ে পড়ে যে কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আগে থেকেই সরাসরি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে যা যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তখন সেটি প্রতিরোধে বৈশ্বিক সমাধান খোঁজার প্রয়োজন পড়ে। সেকারণেই আমরা দ্রুত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করি।’’

ফেসবুক সম্প্রতি তাদের লাইভ সম্প্রচারের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এনেছে। ফেসবুকের একজন মুখপাত্র জানান, নতুন সংযোজিত এই বিধানগুলো আগে থাকলে ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারী হামলার ভিডিও ফেসবুকে সরাসরি দেখানোর সুযোগই পেতনা।

যুক্তরাষ্ট্র বুধবারের বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী আরডের্ন ও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোকে ধন্যবাদ জানান এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। বিবৃতিতে সন্ত্রাসের এবং অনলাইনে সহিংসতা বিস্তারের ‘কড়া ভাষায়’ নিন্দা জানানোর কথা উল্লেখ করা হয়। আবার বিপরীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বাক-স্বাধীনতার অধিকারের কথা তুলে ধরে ‘ক্রাইস্টচার্চ কল’-র মত আনুষ্ঠানিক কোন কাঠামোও অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অপারগতাও জানানো হয় বিবৃতিতে।