১৪ বছরে প্রথম উত্তর কোরিয়া সফরে গেলেন চীনা প্রেসিডেন্ট

(image: Korean Central News Agency via Reuters)

চীনের সাথে নিজ দেশের সম্পর্ককে ‘অপরাজেয়’ হিসেবে অভিহীত করলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এসময় তার পাশে ছিলেন শি জিনপিং, যিনি গত ১৪ বছরের মধ্যে দেশটি সফর করা প্রথম চীনা প্রেসিডেন্ট।

বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই ঘনিষ্ঠ। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তাতে কিছুটা চিড় ধরেছে। বিশেষ করে পরমাণু ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আনা একাধিক নিষেধাজ্ঞায় চীনের সমর্থন দেওয়ার প্রেক্ষিতে।

চীন চায় পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে উত্তর কোরিয়া নমনীয় আচরণ করুক। কারণ এই ইস্যুতে কোরিয় উপদ্বীপে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তা চীনের বৈশ্বিক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ায় তার দু’দিনের সফর শেষ করেন শুক্রবার। এর এক সপ্তাহ পর তিনি জি-২০ শীর্ষ সন্মেলনে মুখোমুখি হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে যার আগ্রহ ও উদ্যোগই সবচেয়ে বেশি।

চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক আয়োজন করে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশেষ অতিথিদের সন্মানে পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক শিল্পীর পরিবেশনায় আয়োজন করা ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

বহু বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসা এই বিশেষ পরিবেশনা অংশগ্রহণকারী ও দর্শকসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে স্বীকৃত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও এমন বিশাল পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয় চীনা প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির সন্মানে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও তার স্ত্রী পেন লিউয়ান দু’দিনের সফরে পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল-জু। বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাদের নিয়ে আসা হয় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায়। পুরো রাস্তায় দু’দেশের পতাকা, রঙিন কাগজ, ফুল, ফিতা নাড়িয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানায় হাজার হাজার উত্তর কোরিয় নাগরিক। হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন শি জিনপিং ও কিম জং উন।   

এরপর আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন দু’দেশের শীর্ষ নেতা। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ব্যাপারে যেমন কথা হয়েছে, তেমনি কোরিয়া উপদ্বীপে পরমাণু কর্মসূচী ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা নিরসনেও আলোচনা করেছেন দু’নেতা।

চীনা প্রেসিডেন্ট পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন জানিয়ে চীনের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শি জিনপিং আশা প্রকাশ করেছেন যে উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মধ্যে শুরু হওয়া আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হবে।

শি ও কিমের এই শীর্ষ বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোরিয় উপদ্বীপ তথা পূর্ব এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে উত্তর কোরিয়াকে উৎসাহিত করা, বিশ্বব্যাপী চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতাপ বজায় রাখার জন্য যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চীনের জন্য জরুরি।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতার জন্য এই বৈঠকটি ছিল বিশ্বকে ও নিজ দেশের জনগণকে এটা দেখানো যে পরাশক্তি চীনের সমর্থন এখনও তার ওপর রয়েছে।

একদিকে একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, তার সাথে নিজস্ব অব্যবস্থাপনা, এর ওপর পরমাণু কর্মসূচী, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মত অতি ব্যয়বহুল তৎপরতায় আগ্রহ… সবকিছু মিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি এক কথায় ভঙ্গুর। এমন অবস্থায় পরাশক্তি চীনই তাদের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সাহায্যদাতা।

আর এই অভিভাবকসূলভ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই চীন চাইছে পরমাণু কর্মসূচী থেকে উত্তর কোরিয়াকে বিরত রাখা।

উত্তর কোরিয়ায় চীনা প্রেসিডেন্টের সফরের কিছু মূহুর্ত :

(images: Korean Central News Agency via Reuters)