হোমপেজ আমেরিকা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের দৌড় থেকে সরে দাড়ালেন বার্নি স্যান্ডার্স

প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের দৌড় থেকে সরে দাড়ালেন বার্নি স্যান্ডার্স

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স (Image: Reuters)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেন ভারমন্ট রাজ্যের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দী হওয়ার দৌড়ে সামনের সারিতেই ছিলেন আলোচিত এই সিনেটর।

বার্নি স্যান্ডার্সের এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন কোন অঘটন না ঘটলে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পাওয়াটা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেল।

বার্নি স্যান্ডার্স এর আগে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও নিজ দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লড়েছিলেন। সেবারও শেষ পর্যন্ত দলের টিকিট না পেলেও হেভিওয়েট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে তুমুল প্রতিদ্বন্দীতার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন ভারমন্টের সেসময়ের অপরিচিত এই সিনেটর।

এবারও প্রথমদিকে বেশ জোরালোই ছিল মনোনয়ন দৌড়ে স্যান্ডার্সের অবস্থান। এবারের আরেক শক্তিশালী প্রার্থী জো বাইডেনসহ অন্য প্রতিদ্বন্দীদেরকে শুরুর দিকের দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনগুলোতে পরাস্ত করেন তিনি। তবে একপর্যায়ে জো বাইডেন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলে ফিকে হতে থাকে বার্নি স্যান্ডার্সের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা। সুপার টিউসডেসহ পরপর বেশ কয়েকটি প্রাইমারিতে জো বাইডেনের বড় বিজয়ের প্রেক্ষিতে অবশেষে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন সিনেটর স্যান্ডার্স।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে বার্নি স্যান্ডার্সের উত্থানকে অনেকেই ২০০৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্থানের সাথে তুলনা করে থাকেন। যদিও ওবামা শেষ পর্যন্ত ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন যা বার্নি স্যান্ডার্সের ভাগ্যে জোটেনি, তারপরও কোনরকম জাতীয় পরিচিতি ছাড়াই হিলারি ক্লিনটনের মত জনপ্রিয় নেত্রীকে ওবামার পর একমাত্র স্যান্ডার্সই তীব্র লড়াইয়ের মুখোমুখি করতে পেরেছিলেন।

সেবার সফল না হলেও এবার পারবেন, এমন প্রত্যাশায় ২০২০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যও মাঠে নামেন বর্ষীয়াণ এই রাজনীতিবিদ। গতবারের মত এবারও জনমত জরিপে নিজের শক্ত অবস্থান নিয়ে যাত্রা শুরু করেন স্যান্ডার্স। তহবিল সংগ্রহেও অনেকের ধারণাকে ভূল প্রমাণ করেন তিনি। এই তহবিলেরও আবার বড় একটি অংশ সংগৃহীত হয়েছিল অনলাইনে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। নিজের বয়স ৭৮ হলেও গতবারের মত এবারও তার বিপুল সমর্থনের কেন্দ্রে ছিলেন তরুণরাই। কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান আমেরিকানদের সমর্থন এবারও অধরা থাকলেও ল্যাটিন বংশোদ্ভূত হিস্পানিক ভোটব্যাংকে প্রথমবারের মত ভাগ বসাতে সক্ষম হন বার্নি স্যান্ডার্স।

কিন্তু পর্যন্ত আবারও খালি হাতেই ফিরতে হল ভারমন্টের সিনেটরকে। তবে পরপর দু’টো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন যুদ্ধে সত্তরোর্ধ এই রাজনীতিকের তাক লাগানো অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে।