Home মধ্যপ্রাচ্য করোনায় আক্রান্ত সৌদি রাজপরিবারের অন্তত ১৫০ সদস্য

করোনায় আক্রান্ত সৌদি রাজপরিবারের অন্তত ১৫০ সদস্য

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (Image: Reuters)

সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের অন্তত ১৫০ সদস্যের শরীরে নভেল করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রাজধানী রিয়াদের সত্তরোর্ধ গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন বান্দার বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস নামেই যিনি বহির্বিশ্বে পরিচিত) সংক্রমণ এড়াতে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী আছেন।

সৌদি আরবের যে অভিজাত হাসপাতালে দেশটির বিশাল রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করানো হয়, সেই কিং ফয়সাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজপরিবারে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশংকায় এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সিনিয়র চিকিৎসকদের কাছে একটি বার্তা পাঠান। তাতে দেশজুড়ে ভিআইপি (রোগীদের) জন্য প্রস্তুত থাকতে চিকিৎসকদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোপন বার্তাটিতে বলা হয়, “আমরা জানিনা (করোনায়) আক্রান্ত কতজন রোগী আমরা পাব, কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় থাকতে হবে। এই হাসপাতালের কোন কর্মী সংক্রমিত হলে তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে যাতে এখানে রাজপরিবারের সম্ভাব্য আক্রান্তদের জন্য স্থান সংকট না হয়।”

বিশাল সৌদি রাজপরিবারে বিভিন্ন স্তর মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার প্রিন্স রয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে রাজপরিবারের আয়তন প্রায় ১৫,০০০ জনে বিস্তৃত। এরা বিনোদন, ছুটি কাটানো বা ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ইউরোপের দেশগুলোতে ভ্রমণ করে থাকেন। ধারণা করা হচ্ছে, এদেরই কারও মাধ্যমে করোনা উপদ্রুত ইউরোপ থেকে ভাইরাসটি সৌদি রাজপরিবারে সংক্রমিত হয়েছে।

প্রায় সোয়া তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ২,৯৩২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা গেছে, প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন।

করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশটি মার্চের শুরুতে মুসলমানদের বার্ষিক ওমরাহ আয়োজন বাতিল করেছে। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য হজও এবছর বাতিল করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, জেদ্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে যাতায়াতও কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে প্রবেশ ও প্রস্থানেও জারি করা হয়েছে কড়াকড়ি।

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই সংক্রমণ এড়াতে ৮৪ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ সালমান জেদ্দার কাছে একটি প্রাসাদে আর ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান লোহিত সাগর উপকূলের কোন এক এলাকায় স্থানান্তরিত হন।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য দপ্তর এরই মধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনার বর্তমান পরিস্থিতি কেবল সূচনামাত্র। ভবিষ্যৎে দেশজুড়ে সর্বনিম্ন ১০,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০,০০০ মানুষ নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।