Home ইউরোপ করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বরিস জনসন (Image: Reuters)

শরীরে নভেল করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত হওয়ার দেড় সপ্তাহের মাথায় হাসপাতালে নেওয়া হল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। তবে তার অবস্থা গুরুতর নয়। শরীরে জ্বর থাকায় পূর্বসতর্কতা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী জনসনকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানানো হয়েছে দেশটির সরকারি সূত্রে।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার অবর্তমানে অন্য কাউকে এখনও সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে বরিস জনসনই আনুষ্ঠানিকভাবে থাকছেন ব্রিটিশ সরকারের প্রধান হিসেবে। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সকালে হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে সভাপতিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ ডাউনিং স্ট্রীট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু পরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনা ভাইরাস সনাক্তের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসার ১০ দিন পরও প্রধানমন্ত্রীর দেহে করোনার উপসর্গগুলো বিদ্যমান থাকায় সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, “প্রধানমন্ত্রী সকল এনএইচএস (জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা) কর্মীকে দেশব্যাপী তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসাথে সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মেনে ঘরে অবস্থান করতে।”

এদিকে বরিস জনসনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে পূর্বনর্ধারিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “সকল মার্কিন নাগরিক তার (বরিস জনসনের) জন্য প্রার্থনা করছে। তিনি আমার দারুণ একজন বন্ধু ও একজন মহান নেতা।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত যে প্রধানমন্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠবেন, কারণ তিনি একজন শক্তিমান মানুষ।”

গত ২৭ মার্চ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দেহে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী তার ডাউনিং স্ট্রীটের বাসভবনেই দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

বরিস জনসনকে প্রকাশ্যে শেষবার দেখা গিয়েছিল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায়। সেদিন ১০ ডাউনিং স্ট্রীটের সদর দরজায় দাঁড়িয়ে ব্রিটেনজুড়ে কর্মরত এনএইচএস ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় কর্মরতদের উদ্দেশ্যে হাততালি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এছাড়া পরদিন সোমবার সকালে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে হওয়া বৈঠকে অল্প সময়ের জন্য যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী জনসন।

এরপর শুক্রবার টুইটারে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বরিস জনসন নিজেই জানান যে তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কিছু উপসর্গ এখনও দেখা যাচ্ছে।