হোমপেজ মধ্যপ্রাচ্য করোনা ঠেকাতে মক্কা, মদিনায় কারফিউ জারি করল সৌদি আরব

করোনা ঠেকাতে মক্কা, মদিনায় কারফিউ জারি করল সৌদি আরব

(Image: Reuters)

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় ২৪-ঘন্টার কারফিউ জারি করল সৌদি আরবের সরকার। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো লকডাউন করেছে সৌদি সরকার।

দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবার সাথে সংশ্লিষ্টরা এসব নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন। এছাড়া সাধারণ নাগরিকেরা খাবার ও চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে বের হতে পারবেন। একেকটি গাড়িতে একজনের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবেনা।

সৌদি আরবে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়া এলাকা পুর্বাঞ্চলীয় শিয়া প্রধান ওয়াতিফ প্রদেশ গত চার সপ্তাহ ধরে লকডাউন করে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনায় আগে থেকেই ব্যাপকভাবে আক্রান্ত ইরানে ধর্মীয় সফর শেষে ফেরা শিয়া নাগরিকদের কারো মাধ্যমেই সৌদি আরবে করোনার আবির্ভাব হয়।

এর বাইরে রিয়াদ, মক্কা, মদিনা ও জেদ্দা শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন এলাকা আগে থেকেই পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছিল। অন্যান্য এলাকায় গত কয়েকদিন বিকাল ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা ছিল। আর এখন তা পুরো ২৪ ঘন্টায় বাড়ানো হল।

সৌদি আরবে এপর্যন্ত ১,৮৮৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। এই সংখ্যা আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সৌদি সরকার এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, মুসলমানদের বার্ষিক ‘ওমরাহ’ আয়োজন স্থগিত করেছে, জনসমাগমের স্থানগুলো সিল করে দিয়েছে এবং রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের অতি প্রয়োজন ছাড়া চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

সৌদি আরবের হজ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ সালেহ বেনতেন মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হজ পালনে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের এখনই এসংক্রান্ত কোন আনুষ্ঠানিকতা শুরু না করার আহবান জানিয়েছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবে আগস্টে অনুষ্ঠিতব্য হজ আদৌ এবার আয়োজন করা যাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয় আয়োজক দেশ সৌদি আরব।

প্রতিবছর সারাবিশ্ব থেকে আনুমানিক ২০ লক্ষাধিক লোক হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে সমবেত হন। কয়েক সপ্তাহ ধরে মক্কা ও মদিনার শহরের পবিত্র স্থানগুলো ভ্রমণ করে তারা এই আয়োজনে অংশ নেন। হজ ব্যবস্থাপনা তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।