হোমপেজ আমেরিকা অভিবাসীদের গ্রীনকার্ড দেওয়া স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

অভিবাসীদের গ্রীনকার্ড দেওয়া স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প (Image: Reuters)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের গ্রীনকার্ড দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছাড়া আগামী ৬০ দিনের জন্য আর কাউকেই গ্রীনকার্ড দেওয়া হবেনা। এই সময়সীমা প্রয়োজনে আরও বাড়ানোও হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মার্কিন অর্থনীতি যথেষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় শ্রমবাজারে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

বুধবার হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “করোনা পরিস্থিতি উত্তরণের পর অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যখন আবার পুরোদমে আরম্ভ হবে, তখন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেকারদের মধ্যে যেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাই অগ্রাধিকার পান তা নিশ্চিত করবে এই পদক্ষেপটি।”

তবে সমালোচকরা বলছেন, এবছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে মাথায় রেখেই করোনার আড়ালে নিজের কট্টর অভিবাসনবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন করে নিতে চাইছেন ট্রাম্প।

কারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন আর কারা ছাড় পাবেন?

অন্যদেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের ধাপটি হল গ্রীনকার্ড বা ‘বসবাসের স্থায়ী অনুমতি’ পাওয়া। যারা এরই মধ্যে গ্রীনকার্ড পেয়েছেন, তাদের পরিবারের সরাসরি সদস্যদের তো বটেই, কিছুটা দূরবর্তী সদস্যদেরও সুযোগ থাকে গ্রীনকার্ড পাওয়ার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে তেমন সদস্যরা এখন থেকে আর গ্রীনকার্ডের জন্য বিবেচিত হবেননা। ট্রাম্প আগে থেকেই এই প্রক্রিয়াটিকে ‘চেইন মাইগ্রেশন’ আখ্যা দিয়ে এর সমালোচনা করে আসছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন জারি করা আদেশে স্থগিত করা হয়েছে ‘ডাইভারসিটি লটারি’-র কার্যক্রমও। সারাবিশ্ব থেকে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে ৫০,০০০ জনকে গ্রীনকার্ড দেওয়া হত এই কর্মসূচীর আওতায়।

যারা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়ে গেছেন, তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং ২১ বছরের নীচের সন্তানদের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবেনা।

প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন গ্রীনকার্ডের জন্য আবেদনকারী যারা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন তারাও। এছাড়া যারা চিকিৎসক ও নার্সের মত স্বাস্থ্যবিভাগের পদে কাজের জন্য আবেদন করেছেন তারাও পাবেন ছাড়। এছাড়াও গেস্ট ভিসা ও দক্ষ কর্মীদের জন্য ইস্যু করা এইচ-১বি ভিসার আওতায় থাকা অভিবাসন প্রত্যাশীরাও থাকবেন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে।

কি প্রভাব পড়তে চলেছে?

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিভিন্ন দেশের মার্কিন কনস্যুলেটের ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের জন্য স্থগিত আছে। ফলে প্রেসিডেন্টের এই নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ওয়াশিংটন ভিত্তিক একটি সংস্থার হিসাব মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন এই আদেশের কারণে প্রতিমাসে গড়ে ২০,০০০ গ্রীনকার্ডের আবেদন আটকে যাবে।

বিভিন্ন মানবাধিকার ও অভিবাসন সংক্রান্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।