কারাদন্ডের রায় মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন জ্যাকব জুমা

অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা (Image : Reuters)

অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। দুর্নীতির তদন্ত সংক্রান্ত আদালতের এক নির্দেশ না মানার অভিযোগে গত সপ্তাহে জুমাকে ১৫ মাসের কারাদন্ড দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

একই সাথে তাকে দ্রুত আত্মসমর্পণ করারও আদেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। অন্যথায় তাকে গ্রেফতার করতে দেশের পুলিশ মন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশনা দেয় আদালত।

এরপর থেকেই সকলের কৌতুহলের কেন্দ্রে ছিলেন ৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তিনি স্বেচ্ছায় ধরা দেবেন, নাকি তাকে জোরপূর্বক গ্রেফতার করতে হবে, তাই নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে দেশটিতে।

রায়ের পর থেকেই জ্যাকব জুমার সমর্থকেরা তার বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। তারা জুমাকে আটক করার যেকোন চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীও ঘোষণা করে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আজ মধ্যরাতের মধ্যে জুমা আত্মসমর্পণ না করলে তারা তার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করবে।

এই অবস্থায় জুমা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণেরই সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, আত্মসমর্পণের পর তাকে নিজ প্রদেশ কোয়াজুলু-নাতালের এস্টকোর্ট সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে।

জ্যাকব জুমার কারাদন্ডের ঘটনা গত কয়েক দিনে ব্যাপক আইনি নাটকীয়তার জন্ম দেয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটিতে অতীতে কখনো কোন সাবেক প্রেসিডেন্টকে কোন কারণেই জেলে যেতে হয়নি।

নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি থেকে শুরু করে আদালতের নির্দেশ অমান্যের সকল অভিযোগই অস্বীকার করে এসেছেন জ্যাকব জুমা।

কারাদন্ডের রায়ের পর আদালত তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও ধরা দিতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন জুমা। তবে বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তার সংগঠন ‘জ্যাকব জুমা ফাউন্ডেশন’ জানায় যে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে ‘সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।

এরপর সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মেয়ে ডুডু জুমা সামবুদলা টুইটারে জানান যে তার বাবা (কারাগারের উদ্দেশ্যে) রওনা হয়েছেন এবং তার মনোবল অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে।

নিজের নয় বছরের শাসনামলে জ্যাকব জুমা এবং তার ঘনিষ্ঠদের অনেকের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ওঠে। এমনই এক অভিযোগে করা মামলার তদন্তে মাত্র একবার সাক্ষ্য দিয়ে আর কোন সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন জুমা। এমনকি সহযোগিতার জন্য আদালত নির্দেশ দিলে তাও অগ্রাহ্য করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাটির বিচারক। সাংবিধানিক আদালতের শুনানিতেও যথারীতি অনুপস্থিত থাকেন জ্যাকব জুমা।

এরই প্রেক্ষিতে তাকে কারাদন্ড দেওয়ার ব্যাপারে একমত হন বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। সেইমত গত ২৯ জুন জ্যাকব জুমাকে ১৫ মাসের কারাদন্ডের শাস্তি ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সিসি খামপেপে।

আজ আত্মসমর্পণের কয়েক ঘন্টা আগে জ্যাকব জুমার বাসভবনে প্রবেশ করেন নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন অফিসার। তার আগেই বাসভবনটি ঘিরে ফেলে বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, অফিসারদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতেই আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন জ্যাকব জুমা।

আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সময়সীমা অর্থাৎ মধ্যরাতের কিছু আগে একাধিক গাড়ির একটি কনভয় জ্যাকব জুমার বাসভবন থেকে দ্রুতবেগে বেরিয়ে যায়। তারই একটি গাড়িতে ছিলেন জুমা।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়, আত্মসমর্পণ করেছেন জ্যাকব জুমা। আর এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথম কোন সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাগারে যাওয়ার নজির সৃষ্টি হয়।