Home এশিয়া কিমের গুরুতর অসুস্থতার খবর নাকচ করল দক্ষিণ কোরিয়া

কিমের গুরুতর অসুস্থতার খবর নাকচ করল দক্ষিণ কোরিয়া

কিম জং উন (Image: Reuters)

হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতির যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া। এর আগে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে নানারকম গুজব শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো ভূল প্রমাণিত হয়েছিল।

সর্বশেষ দক্ষিণ কোরিয়ারই একটি বেসরকারি সংবাদ সংস্থার বয়ানে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে সম্প্রতি এক অস্ত্রোপচারের পর ৩৬ বছর বয়সী কিমের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক অবস্থায় চলে গেছে। তিনি কোমায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন, তার মস্তিস্ক আর কাজ করছেনা, দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো আর সাড়া দিচ্ছেনা এমন সব তথ্যও ঘুরতে থাকে এমনকি পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতেও।

এই অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হল, কিম জং উনের হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার অবস্থা মোটেও গুরুতর নয়।

কি কারণে এমন জল্পনা শুরু হল?

উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও কিম জং উনের পিতামহ কিম ইল সাংয়ের জন্মদিন ছিল গত ১৫ এপ্রিল। প্রতিবছর ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিনটি পালন করা হয় উত্তর কোরিয়ায়। ২০১১ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকে নিয়মিতভাবে এই দিনের অনুষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন কিম জং উন।

এবছরই প্রথম কিম ইল সংয়ের জন্মবার্ষিকীর কোন অনুষ্ঠানেই দেখা যায়নি তার পৌত্র বর্তমান শাসক কিম জং উনকে। মূলত তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে।

উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কোন সংবাদ প্রকাশিত হলে তার সত্যতা যাচাই করা খুব কঠিন। কারণ দেশটিতে যেকোন প্রকার তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত কঠোরতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

কিম জং উনকে শেষবার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল গত ১২ এপ্রিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান পরিদর্শন করতে দেখা যায়। সেখানে তাকে স্বাভাবিক ও শারীরিকভাবে সুস্থই দেখা গিয়েছিল।

এরপর থেকেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও তার সম্পর্কে নতুন আর কোন তথ্য প্রচার করা হয়নি। এমনকি গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া নতুন করে যে মিসাইল পরীক্ষা চালায়, সেই কর্মসূচীতেও ছিলেননা কিম। সচরাচর মাঝারি বা দূর, যেকোন পাল্লার মিসাইল পরীক্ষার দিনই কিম জং উন উৎক্ষেপণস্থলে উপস্থিত থাকেন এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তা গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রচার করা হয়।

কিমের কিছু হলে কে হবেন উত্তর কোরিয়ার উত্তরসূরী?

কিম জং উনের গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে এবারের বা ভবিষ্যৎের কোন গুজব যদি শেষমেশ সত্যি হয়ে যায়, তবে কার হাতে যাবে উত্তর কোরিয়ার শাসনভার? এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনই দেওয়া না গেলেও অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে তা কিম পরিবারের বাইরের কারও পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

স্বাধীনতা লাভের সময় থেকে আজ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন কিম পরিবারের তিন প্রজন্ম। ১৯৪৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সাং, তার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তার সন্তান কিম জং ইল, আর তারও মৃত্যুর পর ২০১১ সাল থেকে এখন অব্দি তার পুত্র কিম জং উন।

প্রথম শাসক কিম ইল সাং যেমন শেষের কয়েক বছর ধরে তার ছেলে কিম জং ইলকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে পেরেছিলেন, একইভাবে কিম জং ইল নিজেও মৃত্যুর আগে তার ছেলে আজকের শাসক কিম জং উনকে তৈরি করে রেখে যেতে পেরেছিলেন।

কিন্তু কিম জং উনের নিজের বেলায় পরিস্থিতিটা ভিন্ন। তরুণ এই নেতার কথিত তিন সন্তান এখনও নাবালক। তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে কিম জং উনের মৃত্যু হলে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়লে তাদের কারও পক্ষে শাসকের আসনে বসা সম্ভব নয়।

কিম ইয়ো জং (Image: Reuters)

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংয়ের নাম। অতীতে নিভৃতে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলোতে কিম জং উনের পাশে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে তাকে। গোয়েন্দা সূত্রমতে, উত্তর কোরিয়ার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিম ইয়ো জংয়ের প্রভাব উল্লেখ করার মত। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বোনের মতামতকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেন কিম জং উন নিজেও। ফলে ভবিষ্যৎে তার অবর্তমানে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় বসার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা এই কিম ইয়ো জংয়েরই।