Home এশিয়া করোনায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের সহজ বিজয়

করোনায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের সহজ বিজয়

মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পড়ে ভোট দিচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন (Image: Reuters)

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের উপদ্রবের মধ্যেও অনুষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের দল মিনজো পার্টি।

নিজ দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছনোর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান সরকার। গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও তার প্রতিফলন ঘটবে বলে আগেই ধারণা করা হচ্ছিল।

ফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, ৩০০ আসনের দক্ষিণ কোরিও সংসদে ১৬৩ আসনেই জয় পেয়েছে মিনজো পার্টি। আরও ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে তাদের জোটসঙ্গী প্লাটফর্ম পার্টি। অর্থাৎ মোট ১৮০ আসন নিয়ে আবারও সংসদের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট।

নির্বাচনে মোট ৩৫টি দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দীতা হয় ক্ষমতাসীন মিনজো পার্টি ও প্রধান বিরোধীদল ইউনাইটেড ফিউচার পার্টির মধ্যে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল উত্তর কোরিয়ার পক্ষত্যাগ করে পালিয়ে আসা কূটনীতিক থায়ে ইয়ং-হোর অংশগ্রহণ। ব্রিটেনে উত্তর কোরিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা থায়ে নির্বাচনে দক্ষিণের রাজধানী সিওলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র গ্যাংনাম থেকে প্রতিদ্বন্দীতা করে জয় পেয়েছেন। তিনি বিরোধীদল ইউনাইটেড ফিউচার পার্টির প্রার্থী ছিলেন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নির্বাচনের দিন এ নিয়ে কোন শিথিলতা দেখায়নি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসন। ভোটকেন্দ্রে ঢোকার আগে প্রত্যেক ভোটারকেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পড়তে হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের শরীরের তাপমাত্রা। যাদের তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল তাদের জন্য রাখা হয়েছিল আলাদা বুথ। সকল ভোটারকেই নির্ধারিত বুথে একজন আরেকজনের থেকে ৩ মিটার দূরত্বে দাঁড়াতে হয়েছে।

উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কত হবে তা নিয়ে সংশয় ছিল অনেকের। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৬ শতাংশ, যা এমনকি গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অবশ্য এর অন্যতম প্রধান দু’টি কারণ ছিল প্রথমবারের মত ১৮ বছর বয়সীদের ভোটার করা আর ডাকের মাধ্যমে এবং শনি ও রবিবার স্বশরীরে বিশেষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্ত বা আক্রান্ত সন্দেহে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন প্রায় ৬০,০০০ হাজার জন। ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বাদ পড়েননি তারাও। তবে তাদের জন্য ছিল আলাদা ভোটকেন্দ্র। যাদের শরীরে এরই মধ্যে করোনা সনাক্ত করা হয়েছে নিরাপত্তার কারণে তাদেরকে কেবল দিনের পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়েই ভোট দিতে দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য গণপরিবহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা নিকটস্থ ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন হেঁটে অথবা নিজেদের গাড়িতে চড়ে।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী তান্ডবের মধ্যেও সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটি নতুন ঘটনা নয়। দেশটির ইতিহাসে অতীতেও কখনো রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগেই নির্বাচন বাতিল করা হয়নি। এমনকি ভয়াবহ কোরিও যুদ্ধের (১৯৫০-১৯৫৩) মধ্যেও ১৯৫২ সালে দেশটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করেছিল।