Home এশিয়া নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আজ ভোট দিতে যাচ্ছে শ্রীলংকা

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আজ ভোট দিতে যাচ্ছে শ্রীলংকা

(Image: Reuters, Dinuka Liyanawatte)

দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে আজ ভোট দিতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার জনগণ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এই পদের জন্য আর প্রতিদ্বন্দীতা না করার ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন কোন মুখই দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসতে চলেছেন।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় তিন দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হওয়ার পর এটি দেশটির তৃতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রধান দলগুলোর প্রার্থীসহ মোট ৩৫ জন এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

এবছর ইস্টার সানডের দিন উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের চালানো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫৩ জনের মৃত্যুর সাত মাস পর এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেই ঘটনায় কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

কে হতে পারেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মোট ৩৫ জন প্রার্থী লড়ছেন এবারের নির্বাচনে। প্রায় দু’ফুট লম্বা ব্যালট পেপারে এই তিন ডজন প্রার্থীর নাম থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দীতা হবে প্রধান দুই দলের প্রার্থী গোতাভায়া রাজাপাকসে ও সাজিথ প্রেমাদাসার মধ্যে।

গোতাভায়া রাজাপাকসে (Image: Reuters, Dinuka Liyanawatte)

গোতাভায়া রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদে থাকা মাহিন্দ্রা রাজাপাকসের ভাই। তিনি নিজেও সেই সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন গোতাভায়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ সামনে আসে। তার সময়েই প্রেসিডেন্ট মাহিদ্রা রাজাপাকসের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে দেশটিতে। অভিযোগ রয়েছে, তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলা শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনীর সেই অভিযানে হাজার হাজার সাধারণ তামিল নাগরিকও নিহত বা নিখোঁজ হন। সামরিক বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে এর দায় গোতাভায়া রাজাপাকসের বলেই দাবি করে আসছে ভূক্তভোগী তামিলরা ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

তবে এবছরের ভয়াবহ বোমা হামলার পরে দেশের নিরাপত্তার ইস্যুতে বরাবরই কট্টর অবস্থানে থাকা গোতাভায়া রাজাপাকসের প্রতি সাধারণ শ্রীলঙ্কানদের বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সিংহলিদের সমর্থন বেড়ে যায়।

সাজিথ প্রেমাদাসা (Image: Reuters, Dinuka Liyanawatte)

অপর প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসা নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক সমস্যাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এলেও নিরাপত্তার ইস্যুটিকে হালকাভাবে নেওয়া তার পক্ষেও সম্ভব হয়নি। সাজিথ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ জয়ের প্রধান কারিগর, তৎকালীন সেনাপ্রধান শরৎ ফনসেকাকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা দেখভাল করার দায়িত্ব দেবেন। প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসের অধীনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব সামলানো শরৎ ফনসেকা পরবর্তীতে মতবিরোধের জেরে প্রেসিডেন্টের পক্ষ ত্যাগ করে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছিলেন।

গোতাভায়া রাজাপাকসের মত সাজিথ প্রেমাদাসারও রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস। তিনি শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসার সন্তান, যিনি ১৯৯৩ সালে তামিল বিদ্রোহীদের ঘটানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তাই দেশটিতে গোতাভায়ার মত সাজিথেরও রয়েছে নিজস্ব শক্ত ভোটব্যাংক।

সাজিথ প্রেমাদাসা শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকারে গৃহায়ণ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় দারিদ্র দূর করা ও নাগরিকদের বাসস্থান সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কেন নির্বাচনে আর দাঁড়াচ্ছেন না বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা?

২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশে-বিদেশে সবাইকে চমকে দিয়ে ‘লৌহমানব’ মাহিন্দ্রা রাজাপাকসেকে হারিয়ে দেন তুলনামূলক অপরিচিত মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। রাজাপাকসেরই মন্ত্রীসভার সাবেক সদস্য সিরিসেনা ক্যারিশমেটিক নেতা না হওয়া স্বত্তেও বিরোধী দলগুলোর একজোট হওয়ার সুবাদে সেই নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে জয়ী হন।

তবে এক মেয়াদ শেষে দ্বিতীয়বার আর প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দাঁড়াবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন সিরিসেনা। সুনির্দিষ্টভাবে কারণ উল্লেখ না করলেও ক্রমাগত কমতে থাকা তার জনপ্রিয়তাই এর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইস্টার সানডের দিন ঘটা সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে আগেভাগেই গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তা আমলে নেননি বলে অভিযোগে রয়েছে। নাগরিকদের একাংশের মতে, প্রেসিডেন্ট বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিলে এত বড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো যেত। সে সময় বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল সিরিসেনার প্রেসিডেন্ট পদে থাকার যোগ্যতা।

সেই ঘটনার কয়েকমাস আগে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে হঠাৎ বহিষ্কার করে সেই পদে বসান সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসেকে। রাজাপাকসের সাথে সিরিসেনার আগের বিবাদ ততদিনে মিটে গেছে।

প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার এমন সিদ্ধান্তকে অবৈধ দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। শ্রীলঙ্কায় দেখা দেয় সাংবিধানিক অচলাবস্থার। অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে পদ ফিরে পান বিক্রমাসিংহে, ধাক্কা খায় সিরিসেনার ভাবমূর্তি।